আমেদাবাদ: দুরন্ত কামব্যাক মীরাবাই চানুর। চোটের জন্য দীর্ঘদিন খেলা থেকে দূরে থাকলেও মরচে পড়েনি দেশের এক নম্বর ভারত্তোলকের দক্ষতায়। বরং আরও বেশি সাফল্যের খিদে নিয়ে ফিরেছেন প্রতিযোগিতার মঞ্চে। সোমবার রেকর্ড গড়ে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলেন ৩১ বছর বয়সি চানু। স্ন্যাচ এবং ক্লিন-জার্ক মিলিয়ে তিনি তুললেন ১৯৩ কেজি (৮৪ + ১০৯) ওজন। তাঁর চেয়ে ঢের পিছনে শেষ করেছেন মালয়েশিয়ার রুপোজয়ী হেনরি আইরিন (মোট ১৬১ কেজি)। ব্রোঞ্জ পেয়েছেন ওয়েলসের নিকোলে রবার্টস (১৫০ কেজি)।
গত বছর প্যারিস ওলিম্পিকসের পর থেকেই চোট সমস্যায় ভুগছিলেন চানু। সে জন্য দীর্ঘদিন তাঁকে বিশ্রামে থাকতে হয়। প্রায় এক বছর পর পেশাদার প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন তিনি। নিশ্চিত করলেন স্বপ্নের কামব্যাক। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে নেমে গড়লেন নজির। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের পর এই প্রথম এই বিভাগে অংশ নিলেন চানু। কারণ, ২০২৮ লস এঞ্জেলস ওলিম্পিকসে ৪৮ কেজি বিভাগে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অথচ ২০২০ টোকিও ওলিম্পিকসে রুপো জিতেছিলেন ৪৯ কেজি বিভাগে। আসলে হাঁটুর সমস্যার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই ওয়েট ক্যাটাগরি কমানোর পথ বেছে নেন মণিপুরী কন্যা।
আমেদাবাদে আয়োজিত কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে নতুন অধ্যায়ের শুরুটাও করলেন সাড়া জাগিয়ে। প্রথমে স্ন্যাচ ক্যাটিগরিতে তুললেন ৮৪ কেজি ওজন। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তোলেন ১০৯ কেজি। শেষ প্রচেষ্টায় ১১৩ কেজি তোলার চেষ্টা করে অবশ্য সফল হননি তিনি। তাতেও আটকায়নি সোনা জয়। সাফল্যের আলোয় প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে পেরে উচ্ছ্বসিত চানু। তিনি বলেন, ‘এই সোনা জয় নিঃসন্দেহে স্পেশাল। কারণ এতদিন পর কোনও প্রতিযোগিতায় নেমে সেরাটা মেলে ধরা সহজ ব্যাপার ছিল না। তাছাড়া বিভাগ বদলানোর পর তার সঙ্গে ধাতস্থ হতেও সময় লাগে। তাই বেশ টেনশনেই ছিলাম। ভাবছিলাম, পারব তো! এই সাফল্য অনেকটাই বাড়িয়ে দিল মনোবল।’ চানুর নজর এবার অক্টোবরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে। তাঁর কথায়, ‘দেশকে পদক এনে দিতে পারলে দারুণ গর্ববোধ হয়। সেই লক্ষ্যেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেব। এই আসর থেকে অর্জিত মনোবলকে প্রেরণা করে শীঘ্রই প্রস্তুতিতে নেমে পড়ব।’