Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বয়সে বড় পাত্রীদের নিয়ে পালাচ্ছে নাবালকরা, বুঝিয়ে স্কুলে ফেরাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন

শুধু নাবালিকা নয়, বিয়ের পিঁড়িতে বসছে নাবালকরাও। বাড়ি থেকে তারা বেশি বয়সের পাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। খণ্ডঘোষের এমনই এক নাবালককে উদ্ধার করে শিক্ষার আঙিনায় ফেরাল ব্লক প্রশাসন।

বয়সে বড় পাত্রীদের নিয়ে পালাচ্ছে নাবালকরা, বুঝিয়ে স্কুলে ফেরাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শুধু নাবালিকা নয়, বিয়ের পিঁড়িতে বসছে নাবালকরাও। বাড়ি থেকে তারা বেশি বয়সের পাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। খণ্ডঘোষের এমনই এক নাবালককে উদ্ধার করে শিক্ষার আঙিনায় ফেরাল ব্লক প্রশাসন। ১৭ বছরের ওই ছাত্র এক যুবতীকে সঙ্গে নিয়ে চম্পট দেয়। আধিকারিকরা জানতে পেরে তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। বেশকিছু দিন পর সে বাড়ি ফেরে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ, বলেন, ওই ছাত্রকে আবার স্কুলে ফেরানো হয়েছে। সে নিয়মিত ক্লাস করবে বলে জানিয়েছে। নির্দিষ্ট বয়স না হওয়া পর্যন্ত সে বিয়ে করবে না বলে বাড়ির লোকজন মুচলেকা দিয়েছে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করে আধিকারিকরা সাড়া ফেলে দিয়েছেন। করোনার পর থেকে জেলায় নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। জেলাশাসকের উদ্যোগে জেলাজুড়ে নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধে প্রচার করা হয়। অল্প বয়সে বিয়ে দিলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে জেলাশাসক নিজে কর্মশালা করেছেন। তারপরও অনেকেই নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। সিদুঁর দানের আগেই আধিকারিকরা বাড়িতে হাজির হয়ে যাচ্ছেন। চারদিন আগেই খণ্ডঘোষে তিন নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করেছেন। কেতুগ্রামেরও কয়েকজনের বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া রায়না, বর্ধমান, কালনাসহ বিভিন্ন এলাকায় আধিকারিকরা অভিযান চালিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, সম্প্রতি খণ্ডঘোষ ব্লকে নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে বলে আমানের কাছে খবর আসে। সেই মতো আমরা অভিযান শুরু করি। সরকার মেয়েদের পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন রকম সহযোগিতা করছে। তারপরও কেন অভিভাবকরা মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিচ্ছে সেটা স্পষ্ট নয়। 
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসব করতে গিয়ে অনেক নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। জেলায় প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, অল্প বয়সে গর্ভবতী হয়ে গেলে জীবনহানি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বেঁচে থাকলেও নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। সচেতন করতে আমরাও বিভিন্ন জায়গায় প্রচার চালাই। আধিকারিকদের মতে, নাবালকদের ক্ষেত্রে সমস্যা অন্য রকম। নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে মালাবদল করলে দাম্পত্য জীবন কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নাবালক পাত্রদের উদ্ধার করে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। তাদের বোঝানো হচ্ছে বিয়ের আগেও দরকার পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। তা নাহলে স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে। তারা যাতে স্বাভাবিকভাবে স্কুলে ফিরতে পারে, সেই বন্দোবস্ত আধিকারিকরা করছেন। নতুন করে জীবন শুরু করতে তাদের অসুবিধা হচ্ছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ