নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিসরে যে রদবদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা এবার দলের সংখ্যালঘু শাখাতেও। জেলাভিত্তিক ব্যাপক পরিবর্তন করা হল। মূলত পারফরমেন্স বা যোগ্যতার ভিত্তিতেই সংখ্যালঘু শাখায় তৃণমূল জেলার সভাপতিদের নির্বাচিত করা হয়েছে। নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে একটি নয়া কমিটি তৈরি হয়েছে। আগামীদিনে রাজ্যের প্রতিটি পাড়া, এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও বৃদ্ধি করার কর্মসূচি নিতে চলেছে, তৃণমূলের সংখ্যালঘু শাখা।
বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে গত কিছুদিন ধরে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে রদবদলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে তৃণমূল। ছাত্র, যুব, মহিলা, আইএনটিটিইউসি শাখায় জেলাভিত্তিক ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। রবিবার সেই তালিকায় আর এক দফা হল। তৃণমূলের ৩৫টি সাংগঠনিক জেলায় সংখ্যালঘু শাখার মুখ কারা, সেটা নির্বাচন করা হয়েছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উঠে এসেছে মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরদিনাজপুরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ কংগ্রেসের দিকে ঝুকে ছিলেন। ওই কারণে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মালদহ দক্ষিণ আসনটিতে জয়ী হয় কংগ্রেস। সংখ্যালঘু সংগঠনের মধ্যে কোথায় খামতি, কোথায় সমস্যা রয়েছে, এই সবটাই বিচার বিশ্লেষণ করেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বড়ো অংশের মানুষ তৃণমূলের প্রতিই আস্থাজ্ঞাপন করে আসছেন। মুষ্টিমেয় কয়েকজন অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতি কেন আস্থাশীল, তারই কারণ খোঁজার চেষ্টা করে তৃণমূল। আগামীদিনে যাতে তৃণমূলের প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পায় তারই লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এবং সেই ভিত্তিতেই সংখ্যালঘু শাখায় জেলা সভাপতি বদল হয়েছে। এই বদলের প্রক্রিয়ায় এদিন স্থান পেয়েছে মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলা।
তৃণমূলের সংখ্যালঘু শাখার রাজ্য সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, জেলাভিত্তিক সভাপতিদের নিয়ে নতুন একটি টিম তৈরি হয়েছে। তাতে নবীন-প্রবীণ সকলেই আছেন। এই নয়া টিম নিয়ে প্রতিটি পাড়া, অঞ্চল ও এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও বৃদ্ধি করাই আমাদের আগামীদিনের লক্ষ্য।
অন্যদিকে, তৃণমূল এদিন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা, কৃষ্ণনগর সংগঠনিক জেলা এবং বীরভূম সংগঠনিক জেলায় ব্লক ও টাউন সভাপতিদের ক্ষেত্রেও বদল এনেছে। খয়রাশোল, দুবরাজপুর, ময়ূরেশ্বর-২, নলহাটি-২ সহ বিভিন্ন ব্লকে একাধিক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খয়রাশোল ব্লকের তৃণমূলের সংগঠন দেখবার জন্য চারজনের কোর কমিটি তৈরি হয়েছে। দুবরাজপুর, ময়ূরেশ্বর-২ ব্লকের জয়েন্ট কনভেনার করা হয়েছে। নলহাটি ব্লকে পাঁচজনের কমিটি তৈরি হয়েছে। এই সামগ্রিক বিষয় দেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ব্লকের সংগঠন পরিচালনার জন্য কোর কমিটি গঠন এটা বাস্তবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। তার মানে, ওই অঞ্চলগুলিতে তৃণমূল কোনও একক ব্যক্তিকে দায়িত্ব না দিয়ে চার বা পাঁচজনের উপর ভরসা রেখেছে।