অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: কোভিড, দীর্ঘসূত্রিতা এবং নিয়মের জাঁতাকলে মাধ্যমিকে বসাই অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে সফিয়া হাসানের। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের হাতেই ঝুলছে তার ভাগ্য। পর্ষদ অবশ্য তার এই অনিশ্চয়তার জন্য স্কুলকেই দায়ী করছে। আর স্কুলের দাবি, তারা পরিস্থিতির শিকার। ঠিক কী হয়েছে, যাতে একজন দরিদ্র, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রীর পরীক্ষায় বসাই অনিশ্চিত হতে চলেছে?
পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির সাহেবনগরে নন্দকুমার জীবনরাও এসটিপিএন হাইস্কুলে পড়ে সফিয়া। স্কুলটি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। এসটিপিএন দাতব্য ট্রাস্টই স্কুলটি চালায়। ইংরেজি মাধ্যম এই স্কুলটির অনুমোদন রয়েছে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। তবে, সেখানেই রেখে সফিয়াকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়িয়ে গিয়েছে স্কুলটি। এখন সেই স্কুলের তরফে পর্ষদকে অনুরোধ করা হয়েছে, কাঁথির একটি ইংরেজি মাধ্যম গার্লস স্কুলের মাধ্যমে সফিয়াকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হোক। দিনকয়েক আগে এই চিঠি পেয়ে চক্ষু চড়কগাছ পর্ষদের। দেরিতে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য ইতিমধ্যেই বহু স্কুলকে ছাত্রপিছু পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পর্ষদ। তবে, এখনও ছোটখাট ভুলভ্রান্তি শুধরে নেওয়ার জন্য জরিমানা দিতে আগ্রহী স্কুল পর্ষদে আসছে না তেমন নয়। তবে, এই স্কুল সমস্ত ছাড়ের আওতার বাইরে চলে গিয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর এই স্কুল কর্তৃপক্ষকে শুনানিতে ডেকেছে পর্ষদ। সেখানেই ভাগ্য নির্ধারিত হবে ছাত্রীর।
কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল? ট্রাস্টের তরফে গুণময় দাস বলেন, কোভিডের কারণে আমাদের স্কুলের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অনুমোদনের আবেদন বহুদিন বিকাশ ভবনে পড়ে ছিল। তারপরে আমি নিজেই আদালতে মামলা করে এবং আইনজীবী ছাড়াই নিজে তা লড়ে স্কুলের অনুমোদন আদায় করি। এখানে অত্যধিক সময় চলে যাওয়ায় মাধ্যমিকের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টিও পিছিয়ে যায়। সঠিক সময়ে অনুমোদন পেয়ে গেলে ওই ছাত্রীর এখান থেকেই পরীক্ষা দেওয়ায় কোনও বাধা থাকত না। তবে তা হয়নি। সেই কারণেই শেষ মুহূর্তে ওই ছাত্রীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে অন্য স্কুল থেকে পরীক্ষায় বসানোর অনুমতি চেয়েছি।’
পর্ষদ প্রাথমিকভাবে প্রশ্ন তুলেছে, ওই স্কুলে অন্যান্য পড়ুয়ারা আগেই অন্য মাধ্যমিক স্কুলে ভরতি হয়ে গিয়েছে। ওই ছাত্রীকে ছাড়া হয়নি কেন? এই ব্যাপারে গুণময় দাসের বক্তব্য, ওই ছাত্রী দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার পড়াশোনা ও থাকার যাবতীয় খরচই অন্য কেউ বহন করে। ৭০-৭২ কিলোমিটারের মধ্যে কোনও সরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল না-থাকায় সে সেখানে যেতে পারেনি। কারণ সেখানে তার খরচ বহন করা কঠিন হত। কাছাকাছি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থাকলেও সেগুলি কেন্দ্রীয় বা সর্বভারতীয় বোর্ডের অধীনে। ফলে, সিলেবাস পরিবর্তন হয়ে তো যেতই, সেই খরচ বহনও পরিবার বা দাতাদের পক্ষে সম্ভব হত না। কোনও উপায়ান্তর না দেখেই ওই ছাত্রীকে রেখে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, পর্ষদকে ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাছাড়া, মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত স্কুলের অনুমোদনও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চলে আসবে। ফলে, পরবর্তীতে কোনও পড়ুয়ার ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হবে না।