সংবাদদাতা, বালুরঘাট: খেলার সময় কোনোভাবে একটি চোখে কাচের টুকরো ঢুকে গিয়েছিল দশ বছরের মানবের। বাড়ির লোক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু লাভ কিছুই হল না। অভিযোগ, চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণে সেই চোখটি খোয়াতে হয়েছে মানবকে। পরিবারের দাবি, ভুল চিকিৎসার কারণে চোখে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। পরে নেপালে নিয়ে গিয়েও সেই চোখ আর বাঁচানো যায়নি। শুধু তাই নয়, সংক্রমণ অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়া আটকাতে আক্রান্ত চোখটি অস্ত্রোপচার করে তুলে ফেলতে হয়েছে। এই ঘটনায় দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন নাবালকের পরিবার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দশ বছরের মানব বর্মনের বাড়ি পতিরাম থানার দক্ষিণ পতিরাম এলাকায়। বাবা অমিত পেশায় গাড়িচালক। গত ২৩ জুলাই বাড়িতে মোবাইলের গ্লাস কভার নিয়ে খেলতে গিয়ে চোখে কাচের একটি ছোট টুকরো ঢুকে যায়। পরদিন সকালে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে নিয়ে গেলে এক চিকিৎসক কাচের টুকরোটি বের করে দেন। ওই দিনই তাকে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে পাঠানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে এক ডাক্তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না করে শুধু একটি ড্রপ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। কয়েক দিনের মধ্যে চোখ ফুলে যায়। ২৮ জুলাই এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে গেলে তিনি দ্রুত বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসার পর চোখে গুরুতর সংক্রমণ হয়। এরপর নেপালের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্ত চোখ আর বাঁচানো সম্ভব নয়। সংক্রমণ অন্য চোখে ছড়ানোর আশঙ্কায় দ্রুত চোখটি তুলে ফেলতে হবে। পরে অস্ত্রোপচার করে চোখ তুলে ফেলা হয়। ওই নাবালকের বাবা বলেন, নেপালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কাচ বের করার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা হয়নি। সেই কারণে সংক্রমণ বেড়ে যায়। বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা যদি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে চিকিৎসা করতেন তাহলে ছেলের চোখ বেঁচে যেত। আমরা অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের শাস্তি চাই। আমার ছেলের সঙ্গে এত বড় অন্যায় হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ চাই। নাবালকের মা মমি বর্মন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ছেলের চিকিৎসা করার মত অর্থ নেই। অভিযুক্ত এক চিকিৎসকের দাবি, আমাদের কারও তরফেই কোনো গাফিলতি হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সঠিকভাবেই করা হয়েছিল। পরে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দ্রুত বাইরে রেফার করা হয়। জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগ শুনে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ জানাতে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের সুপারের দ্বারস্থ পরিবার।-নিজসট্ব চিত্র