নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পরিবারে তীব্র আর্থিক দুরবস্থা। টাকার জন্য নিজের নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু ওই নাবালিকা বেশ কিছুদিন স্কুলে না যাওয়ায় সহপাঠীরা যোগাযোগ করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে। এরপরেই মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে লিলুয়া থানা এলাকা থেকে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে পুলিস, চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি ও এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহরেও নাবালিকা বিয়ের হার বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি।
লিলুয়ার একটি স্কুলের দশম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে তার পরিবার জোর করে বাড়ির কাছেই এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয়। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বিয়ে দেওয়া হয় নাবালিকার। এরপর থেকেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় তার। গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ হলে স্কুল খুললেও বন্ধুর দেখা না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয় তার সহপাঠীরা। খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারে, ইতিমধ্যেই নাবালিকার বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সহপাঠীদের মধ্যেই কয়েকজন সোমবার যোগাযোগ করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফিউচার ফর নেচার ফাউন্ডেশনের সঙ্গে। এরপরেই সংগঠনের সম্পাদক শুভ্রদীপ ঘোষ জেলা প্রশাসন, চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি ও লিলুয়া থানাকে বিষয়টি জানান। মেয়েটিকে কোথায় বিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে পুলিস। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। তাকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শুভ্রদীপবাবু বলেন, গ্রামের পাশাপাশি শহরেও এখন নাবালিকা বিয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। গত দু’মাসে পুলিসের সহযোগিতায় আমরা ছ’জন নাবালিকার বিয়ে রুখতে পেরেছি। এক্ষেত্রে টাকার প্রয়োজনেই নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন বাবা।