Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসতে নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ, সাজাপ্রাপ্ত স্বামীকে তীব্র ধিক্কার স্ত্রীর

‘ফাঁসি নয়, মরে গেলে তো বেঁচে যাবি। সারাজীবন জেলের ঘানি টান। সূর্যের আলো যেন দেখতে না হয়।’ বারাসত পকসো আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে সোমবার দুপুরে এই কথাই বলতে শোনা যাচ্ছিল এক মহিলাকে।

বারাসতে নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ, সাজাপ্রাপ্ত স্বামীকে তীব্র ধিক্কার স্ত্রীর
  • ১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘ফাঁসি নয়, মরে গেলে তো বেঁচে যাবি। সারাজীবন জেলের ঘানি টান। সূর্যের আলো যেন দেখতে না হয়।’ বারাসত পকসো আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে সোমবার দুপুরে এই কথাই বলতে শোনা যাচ্ছিল এক মহিলাকে। যাকে উদ্দেশ্য করে গৃহবধূ এই কথা বলছিলেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে তাঁর স্বামী। এদিন তার সাজা ঘোষণা হয়। এই ব্যক্তি তার মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত। নিজের ১০ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল সে। সোমবার সাজা ঘোষণা হয়। তারপর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যেই কেঁদে ফেলেন নির্যাতিতার মা ও তাঁর পরিবার। 

Advertisement

ঘটনাটি নিউটাউন থানা এলাকার। ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত ৪২ বছরের ওই ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত দু’বছরের জেল, পাশাপাশি আইপিসি ৫০৬ ধারায় দোষীর আরও তিনবছর অতিরিক্ত সাজার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সব সাজা একসঙ্গে চলবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল নিউটাউন থানায় অভিযোগ জানান এক গৃহবধূ। তাঁর অভিযোগ ছিল, ১০ বছরের মেয়েকে বেশ কিছুদিন ধরে ধর্ষণ করছে তাঁর স্বামী। তাঁর অনুপস্থিতিতে এই অপরাধ করছিল সে। শুধু তাই নয়, বিষয়টি কাউকে বললে প্রাণনাশেরও হুমকি দিয়েছিল মেয়েকে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত নেমে পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে তিনবছর ধরে মামলা চলছিল বারাসত জেলা বিশেষ পকসো আদালতে। সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখার পর শুক্রবার ওই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। মামলার সরকারি আইনজীবী গৌতম সরকার বলেন, ‘এই মামলায় সাক্ষী ছিলেন ১০ জন।’ এদিন আদালত চত্বরে চোখের জল মুছতে মুছতে নাবালিকার মা বলেন, ‘নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করেছে আমার স্বামী। কাউকে বললে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল। সহ্যের বাঁধ ভাঙার পর মেয়ে আমাকে সব খুলে বলে। আমি চাই লোকটা সারাজীবন জেলের ঘানি টানুক। যেন কখনও সূর্যের আলো দেখতে না পায়। আমি ফাঁসি চাই না। কারণ মৃত্যু হলে লোকটা তো বেঁচে গেল। আমি চাই, কষ্ট পেয়ে পেয়ে যেন শেষ হয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ