নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ১১ বছরের নাবালিকাকে টানা তিনমাস ধর্ষণ! হুমকি আর ভয়ে ওই নাবালিকা কাউকে কিছু বলতেও পারেনি। কারণ, অভিযুক্তরা সকলেই পরিচিত। তারা নাবালিকার পাড়ারই কিশোর। লাগাতার ধর্ষণের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরই সামনে আসে পাশবিক ঘটনাটি। নাবালিকার মা সোজা দ্বারস্থ হয়েছেন বাগুইআটি থানায়। পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ধর্ষণ, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার দিনেই অভিযুক্ত পাঁচজন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। টানা যৌন অত্যাচারের জেরে ওই নাবালিকাও ট্রমার মধ্যে চলে গিয়েছে। পরিবারের লোকজনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অভিযুক্তরা কিশোর হলেও এই জঘন্য অপরাধের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,গত রবিবার বাগুইআটি থানায় নাবালিকার মা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, গত শনিবার বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। তাঁর মেয়ে রাতের বেলায় হঠাৎ, মাকে ভয়ে ভয়ে কেঁদে জানায়, গোপনাঙ্গে ব্যথা করছে। মেয়ের শারীরিক অবস্থা দেখেই মা বুঝতে পারেন, ধর্ষণের শিকার। জিজ্ঞাসা করতেই মাকে সে পাড়ার বাসিন্দা অভিযুক্ত কিশোরদের নাম বলে দেয়। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১৫-১৭ বছরের মধ্যে। অভিযোগ, গত তিনমাস ধরে তারা ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে আসছে। আলাদা আলাদা জায়গায় নিয়ে গিয়ে তার উপর অত্যাচার করা হত। যেহেতু, নাবালিকাকে ভয় দেখানো হয়েছিল, তাই সে এতদিন কাউকে কিছু বলেনি। কিন্তু, রক্তপাত ও অসহ্য যন্ত্রণা হতে, সে আর বিষয়টি লুকোতে পারেনি। এই ঘটনায় স্কুলছাত্রী ওই নাবালিকা মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে। সে ভয়ে গুটিয়ে রয়েছে।
রবিবার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই বাগুইআটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রথমে পাঁচজন কিশোরকে চিহ্নিত করে আটক করা হয়। তারপর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ (৬৪ বিএনএস), অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন সহ ৪,৬ ও ৮ পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। নাবালিকা ও ধৃতদের মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যেহেতু ধৃতরা নাবালক, তাই গ্রেপ্তারের পরই রাতে তাদের একটি সরকারি হোমে পাঠানো হয়েছিল। পরদিন সকালে সল্টলেকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করা হয়। সেখান থেকে তাদের ফের ওই শেল্টার হোমে পাঠানো হয়েছে।