নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ফুটবল খেলার পর বন্ধুরা মিলে নেমেছিল ডুমুরজলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন পুকুরে। স্নানের জন্য অনুপযুক্ত ওই গভীর জলাশয়ে তাদের নামতে বারণ করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্টেডিয়ামের নিরাপত্তারক্ষীরা। কারও কানে যায়নি সেই কথা। জলে নামার পর তলিয়ে যায় এক কিশোর। পুলিস কর্মীরা এসে জল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। মৃত কিশোরের নাম অভিজিৎ শর্মা (১৪)। ব্যাঁটরা এলাকায় তার বাড়ি। রবিবার সকালের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিস দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ৯টা নাগাদ ডুমুরজলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফুটবল মাঠে খেলার পর পাশেই একটি পুকুর স্নান করতে নামে চার কিশোর। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা রক্ষীরা জলে নামতে বারণ করেন তাদের। নিষেধ না শুনে প্রায় আধঘণ্টা স্নান করে চারজন। নিরাপত্তা রক্ষীদের কথায়, তাদের মধ্যে একজন পুকুরের প্রায় মাঝামাঝি চলে যায়। বহুবার তাকে সাবধান করা হয়। এরপর আচমকা তলিয়ে যায় সে। অভিজিৎকে ডুবে যেতে দেখে চিৎকার শুরু করে বাকিরা। ছুটে আসেন ডুমুরজলা রিং রোডে কর্মরত চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিস ও স্থানীয়রা। তড়িঘড়ি কিশোরকে জল থেকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের নিরাপত্তারক্ষী তথা প্রত্যক্ষদর্শী মিঠুন অধিকারী বলেন, ‘মাঠে খেলার পর ওই ছেলেরা পুকুরের দিকে যেতে দেখেই আমি ওদের বারণ করি। স্টেডিয়াম সংলগ্ন পুকুরগুলিতে স্নান করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমার চোখ এড়িয়েই ওরা পুকুরে নেমে গিয়েছিল।’
জানা গিয়েছে, এই পুকুরে বছর কয়েক আগে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল দু’জনের। মূলত ডুমুরজলা স্টেডিয়াম এলাকায় যাতে অত্যধিক বৃষ্টিতে জল না জমে, সেই জন্যই আশপাশে এই গভীর পুকুরগুলি খনন করা হয়েছিল। এগুলি স্নানের জন্য উপযুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেকেই বলেন, ‘প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কিশোর-যুবকরা খেলার পর সেখানে স্নান করতে নেমে পড়ছে। এতে প্রায়ই বিপদ বাড়ছে।’ এই পুকুরগুলি সংস্কার না হওয়ায় নীচে প্রচুর আগাছা, লতাপাতা জমেছে। তাতে কোনওভাবে পা জড়িয়েই এদিন ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিসের। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘এই সব পুকুরে যাতে কেউ স্নান করতে না নামে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। রিং রোড এলাকায় পুলিসি নজরদারি বাড়ানো হবে।’ নিজস্ব চিত্র