Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দু’ঘণ্টা আউটডোরের লাইনে দাঁড়িয়ে নাবালকের মর্মান্তিক মৃত্যু, কাঠগড়ায় বি সি রায়

ফের সামনে এল সরকারি হাসপাতালের সেই পুরনো রোগ। এক ঘর থেকে অসুস্থ রোগীকে অন্য ঘরে পাঠানো।

দু’ঘণ্টা আউটডোরের লাইনে দাঁড়িয়ে নাবালকের  মর্মান্তিক মৃত্যু, কাঠগড়ায় বি সি রায়
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের সামনে এল সরকারি হাসপাতালের সেই পুরনো রোগ। এক ঘর থেকে অসুস্থ রোগীকে অন্য ঘরে পাঠানো। কখনও ইমার্জেন্সি থেকে আউটডোর। কখনও আউটডোর থেকে ইমার্জেন্সি। অথবা আউটডোরেরই এক ঘর থেকে অন্যত্র রোগী ও বাড়ির লোকজনকে ঘুরপাক খাওয়ানো। ফল হল মর্মান্তিক। 

Advertisement

অভিযোগ, সোমবার এমনই চরকিপাকের বলি হল বছর পাঁচেকের এক শিশু। গুরুতর অসুস্থ শিশুটিকে সোমবার ফুলবাগানের বি সি রায় শিশু হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ফিভার ক্লিনিকের লম্বা লাইনে। বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে বাচ্চাটি। তারই পরিণতি মর্মান্তিক মৃত্যু। হাসপাতাল এবং পরিবার সূত্রের খবর, বাচ্চাটির নাম শাকিব। বয়স ৫। বাড়ি হাওড়ার ডোমজুড় এলাকায়।  
ঘটনার পর ঩বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বাড়ির লোকজন। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালে। খবর দেওয়া হয় পুলিসে। ফুলবাগান থানা থেকে পুলিসবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। যদিও পুলিস বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ সোমবার রাত পর্যন্ত জমা পড়েনি বলেই খবর। 
বি সি রায় শিশু হাসপাতালের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ সামন্ত বলেন, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। যেটুকু জেনেছি, বাচ্চাটি ১০-১২ দিন ধরে অসুস্থ ছিল। তবে যেভাবে বলা হচ্ছে, ঘটনাটি তেমন নয়। বাড়ির লোকজন কোনও লিখিত অভিযোগও জানায়নি। 
হাসপাতাল সূত্রের খবর, ১০-১২ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল শাকিব। তাকে প্রথমে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে দেখানো হচ্ছিল। সেখান থেকে বলা হয় পিজি বা বড় হাসপাতালে নিয়ে যান। এদিন শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হলে, বাড়ির লোকজন শাকিবকে রাজ্যের এক নম্বর সরকারি শিশু হাসপাতাল বি সি রায়-এ নিয়ে যান। 
বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, বেলা ১১টা নাগাদ ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গেলে বলা হয় আপনারা ওকে একতলার ফিভার ক্লিনিকে নিয়ে যান। ক্লিনিকে তখন লম্বা লাইন। জ্বরের পাশাপাশি আচ্ছন্নভাবও ছিল বাচ্চাটির। বেশ কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। তখন চিকিৎসকরা দেখে বলেন, ইমার্জেন্সি নিয়ে যান। হাসপাতালেরই এক সূত্র জানিয়েছে, ফিভার ক্লিনিক থেকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যেতে যেতেই বাচ্চাটি সে মারা যায়। বি সি রায়ের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছে, ঘটনাটিতে কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ