দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: পরিবারে কোনও নিকটাত্মীয়ের বিপদ হলেও ট্রেনচালক সেই খবর পাবেন ডিউটি শেষের পর। কারণ ডিউটির সময়ে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন সুইচড অফ করে রাখতে হবে। সারপ্রাইজ চেকিংয়ে নির্দিষ্ট ওই সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চালু অবস্থায় পাওয়া গেলে ওই ট্রেনচালক এবং সহ চালককে শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে। ট্রেন চালানোর সময় শুধুমাত্র অফিসিয়াল ফোন চালু রাখতে পারবেন লোকো পাইলট এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলটরা। কিন্তু সেই ফোনও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে না। তবে ট্রেন চালানোর সময় সেই ফোনও ব্যাগ-বন্দি করে রাখতে হবে। একমাত্র ট্রেন দুর্ঘটনা কিংবা কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যার মতো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তাতে কথা বলা যাবে। আর সেই ‘কমিউনিকেশন’ হতে হবে অফিসের সঙ্গেই। এমনই ‘আজব’ নির্দেশিকা জারির পথে হাঁটতে চলেছে রেল বোর্ড।
রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে খবর, শীঘ্রই বিভিন্ন রেলওয়ে জোনে এহেন নির্দেশিকা পাঠানো হচ্ছে। ট্রেন চালানোর সময় লোকো পাইলট এবং সহ চালকদের প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার ব্যাপারে ইতিপূর্বে বিধিনিষেধ জারি করেছে রেলমন্ত্রক। তা নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে। এবার ‘টার্গেট’ ফোন। রেল বিশেষজ্ঞ মহলের কটাক্ষ, ট্রেনের চালক এবং সহ চালকরা চাকরি করছেন নাকি স্কুলে পড়তে যাচ্ছেন—তা বোঝা যাচ্ছে না! মন্ত্রক যে এমন নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে, তা স্বীকার করেছে সারা ভারত ট্রেন চালক সংগঠনের সর্বভারতীয় শীর্ষ নেতা কে সি জেমস। এই ব্যাপারে মোদি সরকারের বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে লোকো পাইলটদের সংগঠন।
রেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অফিসিয়াল নম্বর সত্যিই অফিস সংক্রান্ত কমিউনিকেশনে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা জানতে আচমকা কল লগ খতিয়ে দেখা হতে পারে। এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে ডিউটিতে যোগ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট লোকো পাইলট এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলটদের কাছে যদি কোনও পার্সোনাল মোবাইল ফোন থাকে, তাহলে তার নম্বর এবং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার নামও উল্লেখ করতে হবে। গোটা বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য না করলেও রেল কর্তাদের একাংশের যুক্তি, যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। অনেক সময় ফোনে ডুবে গিয়ে সিগন্যাল জাম্প করে যান চালকরা। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।