Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬

কোন ট্রেনে কত অগ্নিনির্বাপক, জোনওয়ারি খোঁজ নিচ্ছে মন্ত্রক

রবিবার মধ্যপ্রদেশে তিরুবনন্তপুরম-হজরত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেস। সোমবার বিহারের পাটনায় সাসারাম-পাটনা প্যাসেঞ্জার ট্রেন।

কোন ট্রেনে কত অগ্নিনির্বাপক, জোনওয়ারি খোঁজ নিচ্ছে মন্ত্রক
  • ১৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রবিবার মধ্যপ্রদেশে তিরুবনন্তপুরম-হজরত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেস। সোমবার বিহারের পাটনায় সাসারাম-পাটনা প্যাসেঞ্জার ট্রেন। পরপর দু’দিন দু’টো যাত্রীবাহী ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সম্পূর্ণ বেসামাল হয়ে পড়েছে রেলমন্ত্রক। এর মধ্যে একটি প্রিমিয়াম রাজধানী এক্সপ্রেস হওয়ায় আরও চাপের মুখে মোদি সরকার। এক্ষেত্রে ট্রেনের যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আক্ষরিক অর্থেই ঘুম উড়ে গিয়েছে রেলমন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের। দু’টো ঘটনাতেই কোনো রেল যাত্রী বা সাধারণ মানুষ হতাহত হননি ঠিকই। কিন্তু পরপর দু’দিন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির অভিঘাতে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

রাজধানী এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ‘হায়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ গ্রেড’ (এইচএজি) স্তরের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল বোর্ড। পাটনার সাসারাম স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী শূন্য প্যাসেঞ্জার ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনাতেও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু শুধুই তদন্ত কমিটি গড়ে তার রিপোর্ট হাতে নিয়ে বসে থাকলে যে আদতে কাজের কাজ কিছুই হবে না, তা বিলক্ষণ বুঝে পারছেন রেলমন্ত্রকের আধিকারিকরা। এই পরিস্থিতিতে তাই কোন দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনে কত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের বন্দোবস্ত রয়েছে, এবার তার জোনওয়ারি খোঁজ নেওয়া শুরু করেছে মন্ত্রক। অবিলম্বে এসংক্রান্ত বিষয়ে জোন এবং রেলওয়ে শাখাগুলিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে রেল বোর্ডের কাছে। 
এবিষয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রেল বিশেষজ্ঞ মহল। তবে ঘটনা হল, দূরপাল্লার সাধারণ মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে আগেই রেলমন্ত্রককে সতর্ক করেছিল ক্যাগ। প্রায় চার বছর আগে এসংক্রান্ত একটি রিপোর্ট সংসদে পেশ করেছিল ক্যাগ। রেল বোর্ডকে এব্যাপারে অবিলম্বে পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছিল। রেল বিশেষজ্ঞ মহলের অভিযোগ, তাতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেনি মোদি সরকার। সেই সুপারিশ না মানার ফল বারবার ভুগতে হয়েছে কেন্দ্রকে। যদিও ক্যাগের ওই রিপোর্টে নির্দিষ্ট করে নন-এসি কোচের উল্লেখ করা হয়েছিল। 
সেখানে পরিসংখ্যান পেশ করে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন জোনের চিহ্নিত ৪৪ হাজার ৪০৭টি নন-এসি কোচের মধ্যে ২৭ হাজার ৭৬৩টি কোচেই কোনো অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ, ট্রেনের ৬২ শতাংশেরও বেশি নন-এসি কোচে কার্যত অসুরক্ষিত অবস্থায় সফর করতে হচ্ছে সাধারণ রেল যাত্রীদের। এর মধ্যে নর্দার্ন রেল, দক্ষিণ রেল এবং পূর্ব-মধ্য রেলের অবস্থা সবথেকে খারাপ বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল ক্যাগের রিপোর্টে। এই চার বছরে সার্বিকভাবে এসি এবং নন-এসি কোচের এহেন পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কি না, অবশেষে সেটিই খুঁজে বের করতে রীতিমতো তৎপর হয়েছে মোদি সরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ