নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ভারী শিল্প মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থার চা বাগানগুলিতে ক্রেশ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বয়ানে তুমুল বিতর্ক। জলপাইগুড়ির বানারহাটে কেন্দ্রের অধীনে থাকা চারটি চা বাগানের দূরবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব শ্রমিকরা। এনিয়ে অনেক আন্দোলনও করেছেন তাঁরা। এবার ওই বাগানগুলিতে ক্রেশ নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
কেন্দ্রের ভারী শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা পরিচালিত কারবালা, নিউ ডুয়ার্স, বানারহাট ও চুনাভাটি বাগানে আদৌ কি কোনও চালু ক্রেশ রয়েছে? যদি থেকে থাকে তাহলে ক’টি এবং যদি না থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে কেন নেই? শুক্রবার সংসদে এই প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রের ভারী শিল্পমন্ত্রী ভূপতিরাজু শ্রীনিবাস ভার্মা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ডুয়ার্সের ওই চারটি চা বাগানে মোট পাঁচটি ক্রেশ রয়েছে। কারবালা বাগানে একটি, নিউ ডুয়ার্স বাগানে দু’টি এবং বানারহাট ও চুনাভাটি বাগানে একটি করে ক্রেশ রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ওই উত্তরের পরই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। কারণ, শনিবার কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থা পরিচালিত ওই বাগানগুলিতে থাকা ক্রেশের যে ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে আদৌ সেখানে কোনও শিশু থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এনিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইএনটিটিইউসি’র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কেন্দ্রের অধীনস্থ চা বাগানগুলিতে ক্রেশ রয়েছে বলে সংসদে দাঁড়িয়ে দাবি করছেন মন্ত্রী। অথচ আমরা যে ভিডিও এবং ছবি পেয়েছি, তাতে স্পষ্ট, ক্রেশের নামে ওই বাগানগুলিতে যা রয়েছে, গোয়ালঘরের থেকেও খারাপ অবস্থা সেগুলির। মানুষ তো দূরের কথা, ওই জায়গা পশুদেরও থাকার উপযুক্ত নয়। তাঁর দাবি, রাজ্যের উদ্যোগে প্রতিটি চা বাগানে ক্রেশ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। চা শ্রমিকরা পাতা তোলার কাজে যাওয়ার সময় শিশুসন্তানদের সেখানে রেখে যেতে পারবেন। কিন্তু বানারহাটের ওই চারটি বাগানের মালিক তো কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে ক্রেশ নেই কেন?
বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, তৃণমূল শুধু চারটি চা বাগান নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। অন্য বাগানগুলির কী পরিস্থিতি তা নিয়ে কেন সংসদে বলছেন না তৃণমূল সাংসদ। কেন্দ্রের অধীনস্থ যে সংস্থার অধীনে ওই চারটি বাগান রয়েছে, ভূপতিরাজু শ্রীনিবাস তো সেই সংস্থার মন্ত্রী নন। ধরে নিলাম ওই বাগানগুলিতে ক্রেশের পরিস্থিতি ভালো নয়। কিন্তু শুধু চারটি বাগান কেন, অন্য বাগানের ছবিও সামনে আসা দরকার। তাঁর দাবি, চা বাগানগুলির ছেলেমেয়েরা কীভাবে গাদাগাদি করে গাড়িতে স্কুলে যায়, সেই ভিডিও আমার কাছেও আছে। কেন্দ্রের অনুমোদনের পরও কেন রাজ্য সরকার এখনও চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির ড্রাফট করতে পারল না? এসবের জবাব কে দেবে। বেহাল দশা ক্রেশের। - নিজস্ব চিত্র।