Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

একশো দিনের কাজে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত মন্ত্রী-পুত্র

একশো দিনের কাজে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত মন্ত্রী-পুত্র
  • ১৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গান্ধীনগর: মোদি-শাহর রাজ্য গুজরাতে গ্রামোন্নয়নে ব্যাপক দুর্নীতি। একশো দিনের কাজে ভুয়ো প্রকল্প দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। দীর্ঘ চার বছর ধরে সরকারি কর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে দাহোদ জেলার ধনপুর ও দেবগড় তালুকে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই বেআইনি কাজকর্ম চলছিল বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত বিরোধীদের চাপের মুখে ৭১ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় রাজ্যের কৃষি ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী বাচু খাবাদের ছেলে বলবন্ত খাবাদকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। সেইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রাক্তন এক তালুক ডেভেলপমেন্ট অফিসারকেও।  জেলার ডেপুটি এসপি একথা জানিয়েছেন।  মন্ত্রীর ছোট ছেলে কিরণ খাবাদ পলাতক। এই দুর্নীতিতে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছে শাসক দল বিজেপি। বিরোধীদের দাবি, দুর্নীতির পরিমাণ আড়াইশো কোটি টাকা। 

Advertisement

কয়েকদিন আগেই ডবল ইঞ্জিন রাজ্য যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে ভুয়ো জব কার্ড বানিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার গুজরাতে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন মন্ত্রী-পুত্র। গুজরাতের দাহোড় জেলার ডেপুটি এসপি জগদীশ ভাণ্ডারি জানিয়েছেন, একশো দিনের কাজে রাস্তাঘাট, বাঁধ ও অন্যান্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলছিল বলে দেখানো হয়। অথচ সবই কাগজে-কলমে। বাস্তবে এই প্রকল্পগুলির কোনও অস্তিত্বই নেই।  সম্প্রতি জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক বিএম প্যাটেল প্রথম এই অনিয়ম খেয়াল করেন। তারপরই একটি অডিটে ধরা পড়ে জালিয়াতি। জানা যায়, মন্ত্রীর দুই পুত্রের সংস্থা সহ ৩৫টি সংস্থা সরকারি কাজের নানা জিনিস সরবরাহ করত। অথচ ওই সংস্থাগুলিকে কোনও বরাত দেওয়াই হয়নি।  আদিবাসীদের কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ অর্থ জাল শংসাপত্র ও রসিদের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ফাঁপরে পড়ে আগাম জামিনের আবেদন করেন মন্ত্রীর দুই ছেলে। তবে তা খারিজ হয়ে যায়। 
জানা গিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গ্রামে ১০০ দিনের কাজে ভুয়ো প্রকল্প দেখানো হয়েছিল। এজন্য নকল রিপোর্ট, টাকা বণ্টনের ভুয়ো প্রমাণ জমা দেওয়া হতো। বেনিয়ম দেখেও সরকারি আধিকারিকরা চোখ বুজে ছিলেন বলে অভিযোগ। বিরোধী দলনেতা অমিত চাভডা আগেই মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলকে চিঠি লিখেছিলেন এই ইস্যুতে। তাঁর দাবি, পুরো জালিয়াতির পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকা। মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও করেছেন তিনি। যদিও বাচু খাবাদ এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। 
এর আগেও একাধিকবার গুজরাতে ১০০ দিনের প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।  ২০২৩ সালে ভদোদরায় নিযুক্ত মনরেগার লোকপাল এন কে ওঝা ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছিলেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ