সংবাদদাতা, কালনা: রামনবমী উপলক্ষ্যে নাদনঘাট থানার জাহান্নগর ভাতশালা গ্রামে শতাব্দী প্রাচীন রামসীতার মন্দিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুজোয় মাতলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।
সংবাদদাতা, কালনা: রামনবমী উপলক্ষ্যে নাদনঘাট থানার জাহান্নগর ভাতশালা গ্রামে শতাব্দী প্রাচীন রামসীতার মন্দিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুজোয় মাতলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।
নাদনঘাট থানার ভাতশালা গ্রামে বর্ধমান রাজাদের আমলে রাজপুতদের বসবাস ছিল। তাঁদের আরাধ্য ছিলেন রামসীতা। ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী ওই অঞ্চলে পরিবারের পক্ষ থেকে রামসীতার মন্দির গড়ে তোলা হয়। কথিত আছে, তৎকালীন কোনও এক সময়ে ওই এলাকায় মহামারী হয়। তখনই রাজপুতরা এলাকা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারাই মন্দিরের পুজোপাঠ চালু রাখেন। প্রাচীন মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে যায়।
মন্দিরের প্রাচীন বিগ্রহ চুরি হয়। ২০১৯ সালে পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের আর্থিক সহায়তায় নতুন রূপে গড়ে ওঠে রামসীতার মন্দির। মন্দিরে পটপুজো হয়। নিত্য পুজোপাঠ, কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে বাৎসরিক পুজো হলেও রামনবমীর দিন জাঁকজমক করে রামসীতা ও লক্ষ্মণ, হনুমানের পুজো হয়। এলাকা সহ আশপাশের গ্রামের মানুষ পুজো দিতে ভিড় করেন। রবিবার রামনবমী উপলক্ষ্যে মন্দিরে সকাল থেকে পুজোপাঠ শুরু হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মন্দিরে পুজো দেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। এছাড়াও এদিন কালনা মহকুমাজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় রামনবমী উপলক্ষ্যে রামচন্দ্রের পুজো হয়।
এছাড়াও এদিন রামনবমী উপলক্ষ্যে বিদ্যানগর কালীতলা বাজার থেকে চৈতন্য মহাপ্রভুর বাল্যশিক্ষা কেন্দ্র গঙ্গানন্দপুর মহাপ্রভু মন্দির পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। মন্ত্রীর উদ্যোগে হেমাতপুর মোড়ে রামসীতা পুজো হয়। পুজো উপলক্ষ্যে রামগান, কীর্তনের আসর বসে।
স্বপনবাবু বলেন, ভগবান রামচন্দ্র প্রজা বৎসল ছিলেন। ভগবান সকলের। আজ কিছু মানুষ তাঁকে নিয়ে বিভাজন বিভেদের চেষ্টা করছে। পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বিদ্যানগর বৈষ্ণব ক্ষেত্র হলেও এলাকায় রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন রামসীতা মন্দির। চৈতন্য মহাপ্রভুর বাল্যশিক্ষা কেন্দ্র গঙ্গানন্দপুরে রামনবমীর মেলা বসে। রামচন্দ্রের সঙ্গে সীতা, লক্ষ্মণ ও হনুমান পূজিত হন। তাই বিভেদ নয়, ঐক্যের মধ্যে দিয়ে শান্তিপুর্ণ ভাবে রামনবমী পালন হোক। এদিন কালনা মহকুমাজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় রামনবমী উপলক্ষ্যে রামচন্দ্রের পুজো হয়।