নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মোদি সরকারের রেলে কি সুরক্ষিত নন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীই? এমনই প্রশ্ন দানা বাঁধছে। সম্প্রতি ট্রেন থেকে আচমকাই ‘উধাও’ হয়ে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়কমন্ত্রী জুয়েল ওঁরাও। তিন ঘণ্টা পর তাঁকে ‘উদ্ধার’ করা হয় অন্য আর একটি ট্রেন থেকে। তবে অক্ষত অবস্থায় নয়। শরীরের বেশি কিছু জায়গায় কাটাছেঁড়ার দাগও দেখা গিয়েছে তাঁর। এমনই বেনজির ঘটনায় রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে। তবে সরকারিভাবে এই বিষয়ে রেলমন্ত্রক এবং আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক কেউই মন্তব্য করতে চায়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজে টুইট করে জানিয়েছেন যে, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। কোনও শারীরিক সমস্যা নেই। অযথা কেউ যেন কোনও গুজবে কান না দেন। এমনকী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই দাবিও করেছেন যে, তিনি মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় বৈঠকও করেছেন।
কী ঘটেছিল? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, শনিবার ভোর রাতে দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন থেকে তিনি মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। গন্ডোয়ানা এক্সপ্রেসে চাপেন তিনি। রবিবার ট্রেন যখন দামোহ স্টেশনে পৌঁছয়, তখন দেখা যায় যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁর নির্ধারিত আসনে নেই। হুলুস্থুলু পড়ে যায় অন বোর্ড রেল কর্মীদের মধ্যে। আরপিএফে খবর দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষীরাও খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। গন্ডোয়ানা এক্সপ্রেসের পুরো রুটজুড়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। শেষে ঘণ্টাতিনেক পর সবরমতী এক্সপ্রেসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জুয়েল ওঁরাওকে পাওয়া যায়।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সুগার আছে। দামোহ স্টেশনে তিনি খাবার খেতে নামেন। ইতিমধ্যে ট্রেন ছেড়ে দেয়। তাড়াহুড়োয় ট্রেনে চাপতে গিয়ে তাঁর পা পিছলে যায়। ফলে তিনি আর নির্ধারিত ট্রেনে উঠতে পারেননি। পরিবর্তে দামোহ স্টেশনের অন্য প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা সবরমতী এক্সপ্রেসে উঠে পড়েন। প্রশ্ন উঠছে, একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এভাবে ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার পরও কেন সরকারি কর্মী, আধিকারিকদের চোখে পড়ল না? প্ল্যাটফর্মে তিনি যদি পা পিছলে পড়ে যান, তাহলে অন্য যাত্রীরা কিংবা স্টেশনের কর্মীদের তা নজর এড়িয়ে গেল কীভাবে? ট্রেনে উঠতে না পারলে মন্ত্রী ফোন করে তাঁর কর্মীদের খবর দিলেন না কেন? একাধিক প্রশ্ন সঙ্গত কারণেই উঠতে শুরু করেছে। যদিও টুইট করে যাবতীয় জল্পনায় জল ঢেলেছেন মন্ত্রী নিজেই।