সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: শতাব্দী প্রাচীন উলুবেড়িয়া ইনস্টিটিউট অ্যান্ড লাইব্রেরির সঙ্গে ইতিহাসের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। জোব চার্নকের স্মৃতি বিজড়িত উলুবেড়িয়া শহরের এই প্রতিষ্ঠানকে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সাহায্য করা হবে। রবিবার প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত হয়ে একথা বলেন রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়।
মন্ত্রী বলেন, উলুবেড়িয়ার নিজস্ব একটা সংস্কৃতি আছে। অতীতে এই প্রতিষ্ঠানটি ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউট নামে পরিচিত ছিল। সেই সময় মূলত মহকুমা শাসক, ম্যাজিস্ট্রেট সহ সমাজের গণ্যমান্যরা এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য ছিলেন। এখানে তখন নানা চর্চা ছাড়াও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতো। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য সংখ্যা চারশোরও বেশি। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে অগ্নিকাণ্ডে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাংসদ ও বিধায়ক তহবিলের অর্থ, পুরসভা এবং সকলের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি আবার নবরূপে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। উলুবেড়িয়া শহরের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রশ্নে পুলক রায় বলেন, গোটা শহরেই একাধিক উন্নয়নের কাজ চলছে। আগামী দু’-তিন মাসের মধ্যে উলুবেড়িয়ায় বাইপাস রাস্তার উদ্বোধন হবে। ফলে অনেকটাই যানজট মুক্ত হবে শহর। এছাড়াও ব্রিটিশ আমলে তৈরি ঐতিহ্যবাহী মিলিটারি ব্রিজ সংস্কারের পর নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বিপ্লবী নানু ঘোষ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি সংলগ্ন এলাকা নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। কৈজুড়ি থেকে জেটিঘাট পর্যন্ত রাস্তার পাশে সুদৃশ্য আলো লাগানো হচ্ছে। রবীন্দ্রভবনকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে। সেভাবেই উলুবেড়িয়া ইনস্টিটিউট অ্যান্ড লাইব্রেরিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে যা যা করা প্রয়োজন, সবটাই করা হবে। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি তথা উলুবেড়িয়ার মহকুমা শাসক মানসকুমার মণ্ডল।