সংবাদদাতা, কাটোয়া: বাংলার সবুজ ধানের বুকচিরে মেঠো পথ দিয়ে একতারা হাতে বাউলের সেই ছবি প্রত্যেকরই চেনা। একতারায় মাটির গানে সুর তুলে বাউল শিল্পীরা মঞ্চ মাতান। কাটোয়ার একতারা গ্রাম নামে পরিচিত অগ্রদ্বীপের ছোট কুলগাছিতে বাঁশির মেঠো সুর শুনলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। বুধবার দাওয়ায় বসে শিল্পীদের অভাব অভিযোগ শুনলেন তিনি৷ বিডিওকে একতারা ও বাঁশি শিল্পীদের নিয়ে কাজের শেড তৈরির নির্দেশ দিলেন তিনি। অগ্রদ্বীপের বাঁশি বিদেশের মাটিতেও সুনাম কুড়িয়েছে৷ স্বপন দেবনাথ বলেন, ছোটো কুলগাছির একতারা, বাঁশির সুনাম শুনেছি৷ গোটা গ্রাম এমন শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে৷ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রামীণ এসব শিল্পকে বাঁচানোর জন্য নানা সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন৷ আমি বিডিওকে বলেছি, যাতে গ্রামে শিল্পীদের কাজের জন্য ওয়ার্কিং শেড, বিক্রির ব্যবস্থা করতে৷ কাটোয়া ২ ব্লকের অগ্রদ্রীপের ছোট কুলগাছি গ্রাম জুড়ে একতারা, বাঁশি শিল্পের রমরমা। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই একতারা, বাঁশি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
এখানকার শিল্পীদের তৈরি বাঁশি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বাংলাদেশ, আমেরিকা, জাপান, জার্মান প্রভৃতি দেশ গুলিতে যায়। গ্রামে বাড়ির মহিলা ও পুরুষ প্রত্যেকেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন রকমের একতারা তৈরি করেন। বড় একতারা লাউ এর খোলা দিয়ে তৈরি হয়৷ আর ছোট একতারা গুলি নারকেলের মালা দিয়ে তৈরি হয়৷ গ্রামের শিল্পী বিজয় মাল, আকবর মাল, আস্কর মাল, তাজমিনা মাল বলেন, আমাদের নানা মেলায় গিয়ে বিক্রি করতে হয়৷ এটাতেই নির্ভরশীল আমাদের গোটা গ্রাম৷ একসঙ্গে বসে কাজ করার শেড তৈরি করে দিলে ভালো হয়৷ আসলে বাড়িতে ছোটো জায়গায় খুবই অসুবিধা হয়৷ জানা গিয়েছে, কেরল, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে নারকেলের মালা আমদানী হয়। বিভিন্ন নার্সারি গুলি থেকেও নারকেলের মালা আমদানী করা হয়। তারপর তা নারকেল গুলিকে দু›দিকে যন্ত্রের সাহায্যে ছুলে নেওয়া হয়৷ এরপরেই বাঁশের বেত দু› দিকে লাগিয়ে তার বাঁধা হয়৷ তারপর সেই একতারায় রঙ করে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়৷ এরপর একতারা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করা হয়। আর বাঁশি গুলি আসামের বাঁশ কেটে তৈরি করা হয়। নারকেল কমে যাওয়ায় ছোট একতারা তৈরি ভবিষ্যতে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে গ্রামের এই কুটির শিল্পে ক্ষতি হতে পারে বলে শিল্পীদের আশঙ্কা। এদিন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ শিল্পীদের খুঁটিনাটি সমস্যার কথা জানতে চান৷ তারপর মহিলা শিল্পীদের উৎসাহ দেন।
ষাটোর্ধ্ব শঙ্কর মালের চার পুরুষের বাঁশির কারবার। বাবা ভক্ত মালের পর ছোট ছেলে শঙ্কর মাল বাঁশি, একতারার ব্যবসার হাল ধরেন। বাড়িতেই ছোটখাটো একটা বাঁশি, একতারা তৈরির কারখানা খুলে বসেছেন তিনি। বাংলাদেশ, আমেরিকা, জাপান প্রভৃতি দেশ গুলিতে শঙ্কর মালের হাতে তৈরি বাঁশি পাড়ি দেয়। শঙ্কর বাবু নিজেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রেন, বাসে ঘুরে ঘুরে বাঁশি বিক্রি করেন।
কাটোয়া -২ বিডিও আসিফ আনসারী বলেন, আমরা গ্রামীণ এমন শিল্পকে নিয়ে আমরা প্রস্তাব তৈরি করেছি৷ শীঘ্রই গ্রামে শিল্পের জন্য কাজ করা হবে। যাতে শিল্পের আরও প্রসার ঘটে৷ তার পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷ বাঁশিতে বাউলের মেঠো সুরের গানে স্বপন দেবনাথকেও একতারা নিয়ে তাল ঠুকতে দেখা যায়।