নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২০২৪-’২৫ অর্থ-বর্ষ শেষে পূর্ব মেদিনীপুরে বিধায়ক তহবিলের ৫০ শতাংশ অর্থও খরচ করতে পারেননি আট বিধায়ক। তালিকায় মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী সহ তৃণমূল কংগ্রেসের চার এবং বিজেপির চার জন বিধায়ক রয়েছেন। জেলায় মোট বিধায়ক সংখ্যা ১৬ জন। প্রত্যেকের এলাকা উন্নয়নের জন্য দুই কোটি ৬০ লক্ষ টাকা করে এসেছে। সেই টাকায় সারা বছর ধরে নিজেদের বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ হয়। বছর ঘুরলেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা ঠিকমতো খরচ না হলে প্রার্থীদেরই প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।
জেলায় ১৬টি বিধানসভার মধ্যে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থ খরচে সবার পিছনে এগরা। এখানকার বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের তরুণকুমার মাইতি। ওই বিধানসভায় বরাদ্দের মাত্র ৩৭.৪০ শতাংশ টাকা খরচের ইউসি জমা পড়েছে। এগরা বিধানসভার উন্নয়নের জন্য খরচ হয়েছে ৯৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। পিছনের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কাঁথি উত্তর বিধানসভা। এখানকার বিধায়ক বিজেপির সুমিতা সিনহা। এপর্যন্ত খরচ হয়েছে এক কোটি চার লক্ষ টাকা। শতাংশের নিরিখে ৪০ ভাগ। চণ্ডীপুর বিধানসভার তারকা বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীও এমএলএ ফান্ডের টাকা খরচে পিছিয়ে আছেন। ওই বিধানসভায় ইউসি জমা পড়েছে এক কোটি পাঁচ লক্ষ টাকার। শতাংশের নিরিখে ৪০.৪৯ ভাগ।
এছাড়াও ময়নার বিধায়ক অশোক দিণ্ডা বিধায়ক এলাকা তহবিলের টাকা খরচে পিছিয়ে আছেন। ওই বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের জন্য এক কোটি সাত লক্ষ টাকা ইউসি জমা পড়েছে। শতাংশের নিরিখে ৪১.২৩ ভাগ। সদ্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডলও বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচে পিছনের সারিতে। তাঁর বিধানসভায় এক কোটি ১০ লক্ষ ৫২ হাজার টাকার কাজ হয়েছে। শতাংশের নিরিখে ৪২.৫১ ভাগ।
পাঁশকুড়া পূর্ব বিধানসভার বিধায়ক তথা মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীর এলাকায় বিধায়ক তহবিলের ৪৬.২৫ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। জেলা পরিকল্পনা অফিসে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার ইউসি জমা পড়েছে। এছাড়াও কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক অরূপকুমার দাস বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচে পিছিয়ে আছেন। ওই বিধানসভায় ৪৬.৬৫ শতাংশ অর্থ খরচ হয়েছে।
বিধায়ক এলাকা উন্নয়নে সবার শীর্ষে মহিষাদলের বিধায়ক তিলক চক্রবর্তী। ইতিমধ্যে ইউসি জমা পড়েছে দুই কোটি ১১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকার। শতাংশের নিরিখে ৮১.৩২ শতাংশ। রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ইতিমধ্যে দুই কোটি নয় লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা পটাশপুরের বিধায়ক উত্তম বারিক তৃতীয় স্থানে আছেন। সেখানে এক কোটি ৯২ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকার ইউসি জমা পড়েছে। এছাড়াও ভগবানপুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি ৭৩.৮৬ শতাংশ, নন্দীগ্রামের বিধায়ক ৭০.৬৩ শতাংশ, পাঁশকুড়া পশ্চিমের ফিরোজা বিবি ৬৫.৩১ শতাংশ বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচ করেছেন।
তরুণকুমার মাইতি বলেন, আমি খরচের নিরিখে একসময় তিন নম্বরে ছিলাম। এগরা শহরের জন্য ৮৫ লক্ষ টাকা দেওয়া আছে। জমিজটে কাজ আটকে রয়েছে। তিলক চক্রবর্তী বলেন, আমি ইতিমধ্যে দু’কোটি ৫৩ লক্ষ টাকার প্রকল্প জমা দিয়েছি। সময়মতো তদারকির ফলে দ্রুত কাজ হয়েছে।