নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দপ্তরের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিনেই কৃষকদের উদ্দেশে বড় ঘোষণা করলেন ডবল ইঞ্জিন সরকারের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। বৃহস্পতিবার নবান্নে দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানিয়ে দিলেন, পূর্বতন সরকারের ‘কৃষক বন্ধু প্রকল্প’ আর থাকছে না। তার জায়গায় এবার থেকে বাংলার কৃষকদের ভরসা জোগাতে পশ্চিমবঙ্গে চালু হবে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’। একইভাবে ‘বাংলার ফসল বিমা’র জায়গায় চালু হবে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’। একইসঙ্গে মন্ত্রীর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মতো কৃষক বন্ধু প্রকল্পেও বহু অযোগ্য উপভোক্তা রয়েছেন। তাঁদের বাদ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের পাশাপাশি এরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি বা পিএম কিষান চালু ছিল। সেক্ষেত্রে পিএম কিষানের সুবিধা পেতে কৃষক বন্ধু প্রাপকদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন পড়বে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের মাধ্যমে এক কোটির বেশি কৃষক এবং ভাগচাষিকে বছরে দুটি কিস্তিতে চার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করত রাজ্য। তুলনায় পিএম কিষান প্রকল্পে চাষিরা বছরে দুটি কিস্তিতে ৬ হাজার টাকা করে পেয়ে থাকেন। এছাড়াও, পিএম কিষান প্রকল্পের ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত রয়েছে, যা পূরণ হলে তবেই একজন কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে গণ্য হবেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গে যে ভাগচাষিরা কৃষক বন্ধুর সুবিধা পেতেন তাঁদের কী হবে? আবার শেষ অন্তর্বর্তী বাজেটে ভূমিহীন ভাগচাষিদেরও কৃষক বন্ধু প্রকল্পে যুক্ত করার কথাও ঘোষণা করেছিল পূর্বতন সরকার। অন্যদিকে, পূর্বতন রাজ্য সরকারের বাংলা ফসল বিমার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি টাকাও প্রিমিয়াম দিতে হত না কৃষকদের। প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ খরচই বহন করত রাজ্য সরকার। কিন্তু, কেন্দ্রীয় বিমা যোজনায় ন্যূনতম হলেও প্রিমিয়ামের বোঝা বইতে হয় কৃষকদের। তবে এটা অনেকটাই নির্ভর করে রাজ্যের ভূমিকার উপর। সেক্ষেত্রে এরাজ্যে কি ভিন্ন কিছু করা সম্ভব? এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে গ্রাম বাংলার কৃষকমহলে। তবে রাজ্যের কৃষকদের স্বার্থরক্ষা করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হবে বলে জানিয়েছেন দুধকুমারবাবু। তাঁর কথায়, আজকে প্রথম বৈঠক করলাম। আরো অনেক পড়াশুনো করতে হবে। তবে একটা কথা নিশ্চিত করতে পারি যে, অনেক সমস্যা আছে। সমাধান করতে হবে। চাষিদের স্বার্থরক্ষা করব। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় যাওয়ার মতো, কৃষিতেও রাজ্যের প্রকল্পের বদলে কেন্দ্রের প্রকল্প চালু হবে। নির্বাচনের আগে আলুচাষিদের দুর্দশার বিষয়টি উঠতেই, মন্ত্রী জানিয়েছেন, এরাজ্যে আর অভাবী বিক্রি হবে না। তার জন্য যা করণীয় তাই করা হবে।