Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনে কর্ডলেস সোলার ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা ছিল জঙ্গি রানার, লাইভ ফিড পেত আইএসআই

দেশের যে সমস্ত স্টেশনে সেনাবাহিনীর মুভমেন্ট বেশি সেই সমস্ত জায়গায় কর্ডলেস সিমবেসড সোলার প্যানেল ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করেছিল পাক জঙ্গি রানা রউফ খালিদ।

গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনে কর্ডলেস সোলার ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা ছিল জঙ্গি রানার, লাইভ ফিড পেত আইএসআই
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের যে  সমস্ত স্টেশনে সেনাবাহিনীর মুভমেন্ট বেশি সেই সমস্ত জায়গায় কর্ডলেস সিমবেসড সোলার প্যানেল ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করেছিল পাক জঙ্গি রানা রউফ খালিদ। এরজন্য বেশকিছু স্টেশনকে বাছা হয়েছিল। যাতে লাইভ ফিড মোবাইলের মাধ্যমে পাকিস্তানের আইএসআই কর্তারা দেখতে পায়।  প্রয়োজনীয় টাকাও এসেছিল আইএসআইয়ের কাছ থেকে। জঙ্গি রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি স্টেশনে ক্যামেরা বসানো ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আউটসোর্সিং স্টাফদের টাকার টোপ দিয়ে ফুটেজ জোগাড়ের চেষ্টা করছিল সে। 

Advertisement

রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই জেনেছেন, বিভিন্ন সেনা ছাউনি, সেনা জওয়ানদের গতিবিধি  ও স্টেশনের বিষয়ে তথ্য সে জোগাড় করছিল। এই সমস্ত তথ্য হোয়াটসঅ্যাপ মারফত পাকিস্তানে থাকা আইএসআই কর্তাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছিল। এই হোয়াটসঅ্যাপগুলি খোলার জন্য রানা তার সহযোগী ইজাজের মাধ্যমে সিম জোগাড় করে।  সিম পিছু তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পেত ইজাজ।  ভারতীয় নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ খোলার জন্য রানা ওটিপি সরবরাহ করত আইএসআই আধিকারিকদের কাছে। একইসঙ্গে রানার হাত ধরে নেপাল হয়ে একাধিক চর ভারতে ঢুকেছে বলে খবর। যাদের মধ্যে পাকিস্তান ছাড়া বাংলাদেশের একাধিক নাগরিক রয়েছে। তাদের সকলের ভারতীয় আধার, ভোটার, প্যান তৈরি করে দেয় ইজাজ। ভুয়ো নথি এখানে চরবৃত্তির কাজে আসা ব্যক্তিদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল এই পাক জঙ্গি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রানার হাত ধরে বিগত ১৪ বছরে অন্তত একশো জন এজেন্ট নিয়োগ হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যাদের মগজ ধোলাই করেছিল সে নিজেই।  সেই এজেন্টরা দেশের বিভিন্নপ্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ  করছে। একইসঙ্গে ইজাজও একাধিক চরকে নিয়োগ করেছে। তাদের প্রত্যেককে সেনার গতিবিধি, কোন কোন স্টেশন দিয়ে সেনার মুভমেন্ট বেশি হয়, বিভিন্ন স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, তা নিয়ে তথ্য জোগাড় করতে বলা হয়েছিল। এরসঙ্গে রানা নিজেও খোঁজখবর চালাচ্ছিল।  পাক জঙ্গি জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, সেনা মুভমেন্ট হয়, এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে সে কর্ডলেস সিম বেসড সোলার প্যানেল ভিত্তিক ক্যামেরা বসানোর চেষ্টা করছিল। এই সংক্রান্ত কাজের জন্য পাকিস্তান থেকে আইএসআই কর্তারা টাকাও পাঠিয়েছিল। পাশাপাশি চরবৃত্তিতে নিযুক্ত ব্যক্তিদের পেমেন্ট করার জন্য রানার কাছে  টাকা আসত হাওয়ালা ও ব্যাঙ্কিং চ্যানেল মারফত। এমনকী বেশ কয়েকটি কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টও তদন্তকারীদের নজরে। যেখানে দুবাই বা অন্য দেশ টাকা আসার পর এই টাকা তুলে নিয়ে গিয়েছে রানা ও তার সঙ্গীরা।  তাদের চিহ্নিত করার কাজ করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ