অভিষেক পাল, বহরমপুর: হরকাতুল জিহাদ ইসলামি (হুজি) সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলায়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে হুজির গোপন বৈঠকে সদস্য জোগাড়ের চেষ্টা চলছে বলেই গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য মিলেছে। এই নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বাংলাদেশের অন্যতম নেতা মাসখানেক আগেই রাজ্যে এসেছে। বাংলাদেশে সংগঠনটি হুজি-বি নামে পরিচিতি। এবার মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে সংগঠন বিস্তারের জন্য তারা উঠেপড়ে নেমেছে। সেজন্য তারা বৈঠকের পর বৈঠক করছে বলেও খবর গোয়েন্দাদের। সংগঠনেরর সক্রিয় সদস্যরা বাংলাদেশ থেকে মূলত উত্তর দিনাজপুর হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছে। সীমান্তে তাদের ঢুকতে কারা সাহায্য করছে, সেটা নিয়েও উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দাদের একটি সূত্র দাবি করছে, এপ্রিল মাস নাগাদ উত্তর দিনাজপুর জেলা হয়ে ভারতে প্রবেশ করে হুজির অন্যতম মাথা তথা বাংলাদেশের ওই ধার্মিক নেতা। সে বেশ কিছুদিন মুর্শিদাবাদ এবং পার্শ্ববর্তী বীরভূম জেলায় থেকে সংগঠন বিস্তারের কাজ করেছে। মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী এলাকার বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা এবং তাদের সহযোগীদের সাহায্য নিয়ে সে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছে। মুর্শিদাবাদ হয়ে সে বীরভূমে যায়। সেখানে গিয়ে মৌলবাদী কিছু নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে তারা।
গোয়েন্দাদের দাবি, হরকাতুল জিহাদ ইসলামি বরাবরই একটি কট্টরবাদী ইসলামি সংগঠন। ১৯৯০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারতের মত বেশ কিছু দেশে সক্রিয় ছিল। আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থানের পর আল কায়দার সঙ্গে হুজির নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমনকী হুজির সদস্যরা দিনের পর দিন আল কায়দা শিবিরে প্রশিক্ষণও গ্রহণ করে। এই সংগঠনটিকে বহু বছর আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় অধিকাংশ দেশে। তারপরও হরকাতুল জিহাদ ইসলামি দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে সক্রিয়। একটি সহিংস চরমপন্থী গোষ্ঠী হিসেবে এদেশে ফের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি, এ রাজ্যে তাদের শাখা বিস্তারের ঘটনার কথা জানতে পেরেই তৎপরতা বেড়েছে গোয়েন্দাদের। মুর্শিদাবাদের কয়েকটি খারিজি মাদ্রাসার প্রশিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা কয়েক জায়গায় সভা এবং ধর্ম নিয়ে আলোচনা করেছে বলে খবর। কিন্তু সেইসব গোপন আলোচনায় সংগঠনের সদস্য বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ওইসব আলোচনায় কারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করা শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। পাশাপশি মুর্শিদাবাদ থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা বীরভূমের বেশ কয়েকটি থানা এলাকায় হুজি-বি’র সদস্যরা গিয়েও বৈঠক করেছে।
রাজ্য এবং কেন্দ্রের গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপশি বিএসএফের গোয়েন্দা বিভাগের কাছেও হুজির নেতাদের সক্রিয় হওয়ার ব্যাপারেও তথ্য এসেছে। বাংলাদেশে অশান্তি শুরু হওয়ার পর থেকে মুর্শিদাবাদ সীমান্ত এলাকায় রয়েছে হাই অ্যালার্ট। কোনওভাবেই বাংলাদেশ থেকে এপারে যাতে অনুপ্রবেশ না ঘটে, সেজন্য ২৪ ঘণ্টা তৎপরতার সঙ্গে নজরদারি চালাচ্ছে বিএসএফের জওয়ানরা। কিন্তু তারপরও অবৈধভাবে উত্তর দিনাজপুর সীমান্ত থেকে এ রাজ্যে ঢুকে পড়ছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্যরা। যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিসের আধিকারিকদের।