নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বয়স মাত্র ২৪ বছর। স্মার্ট ও আপাত ভদ্র এই তরুণকে দেখে বোঝার উপায় নেই, সে-ই মিহিজামের ত্রাস রাহুল গুপ্তা ওরফে ‘মুরগি’। মদ্যপান করায় রূপনারায়ণপুরে সিআইএসএফ জওয়ান তাকে ধমক দিতেই শ্যুটআউট করে মুরগি। প্রায় তিনমাস ধরে তার টিকিটি খুঁজে পায়নি পুলিস। অবশেষে অন্য মামলায় ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া আদালতে সে আত্মসমর্পণ করে। তারপরই জামতাড়া জেল থেকে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট করেছে সালানপুর থানার পুলিস। ডিসি সন্দীপ কাররা বলেন, খুনের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
গত ২৩ এপ্রিল রাতে সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানার ডোমদোহায় রাতে শ্যুটআউটের ঘটনা ঘটে। এই এলাকায় একটি জমি কিনেছিলেন বোকারোয় সিআইএসএফ জওয়ান হিসেবে কর্মরত সুনীল পাশোয়ান। কেনা জমিটি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে সেখানে একটি টিউবওয়েল বসিয়েছিলেন। সেদিন রাতে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে পার্টি করার জন্য হাজির হন। সেখানেই এই হত্যাকাণ্ড হয়। পুলিসের কাছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে অভিযুক্তের পোশাকের ছবি ছাড়া অন্য কোনও ক্লু ছিল না। তা নিয়েই তদন্ত শুরু করে পুলিস। এরপরই পুলিসের সামনে আসে মুরগির নাম। জানা গিয়েছে, পাশ্বর্বর্তী মিহিজাম থানা এলাকার একটি গ্যাংয়ের মাথা এই মুরগি। তোলাবাজি করা তাদের পেশা। মুরগি যে কতটা নৃশংস, তা তার অপরাধের ইতিহাস দেখে পুলিস জানতে পারে। এক ব্যবসায়ীর পায়ের শিরা কেটে তাঁকে খুন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকী, এয়ারফোর্সের এক জওয়ানকে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কানগুই এলাকায় অন্য গ্যাংয়ের সদস্য রাহুল সিং ওরফে লেফটিকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ রয়েছে তার নামে। জওয়ান খুনের তদন্ত যত এগিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে মুরগির যোগ ততই স্পষ্ট হয়েছে। মিহিজাম থানা এলাকার আম্বেদকর নগরে তার বাড়িতে খোঁজ করলেও পুলিস তার টিকি পায়নি। ওই এলাকায় তার খোঁজে ক্রমাগত অভিযান চালাতে থাকে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেট। পুলিসের হয়রানি থেকে বাঁচতে লেফটি খুনের ঘটনায় জামতাড়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে মুরগি। সেই খবর চলে আসে রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিসের কাছে। মুরগিকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ করে ট্রানজিট রিমান্ডে আসানসোল আদালতে নিয়ে আসার আর্জি জানানো হয়। সেইমতো জামতাড়া জেল থেকে অভিযুক্তকে নিয়ে এসেছে পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, কুখ্যাত এই অভিযুক্ত এখনও নিজের অপরাধ স্বীকার করেনি। যদিও পুলিসের দাবি, তাকে নিয়ে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে খুনের সময়ে ব্যবহৃত জামা ও প্যান্ট উদ্ধার করা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিস খুনের পিছনে মদ্যপান নিয়ে বচসা মনে করলেও তোলাবাজির বিষয়টিও মাথায় রাখছে। বাইরে থেকে কেউ এসে সেখানে বাড়ি তৈরি করলে, তার কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের রেকর্ড রয়েছে অভিযুক্তর। এক্ষেত্রেও তেমন কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিস জানিয়েছে।