সংবাদদাতা, কান্দি: কেউ চুল কেনার জন্য পাড়ি দেন। কেউবা রাজমিস্ত্রি থেকে অন্যান্য কাজ করার জন্য ভিনরাজ্যে যান। বহু বছর ধরেই কান্দি মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় এই ছবি দেখা যায়। এমন অবস্থায় ভিনরাজ্যের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার জেরে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারগুলি। পরিবারের কাতর অনুনয়ে বাড়ি ফিরছেন শ্রমিকরা। গত এক সপ্তাহ ধরে কান্দির বিভিন্ন এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার পর্ব চলছে। সালার, ভরতপুর, খড়গ্রাম থানা এলাকার গ্রামগুলিতে প্রতিদিনই শ্রমিকরা বাড়ি ফিরছেন বলে জানা গিয়েছে। আর বাড়ি ফেরার পর পরিবারের লোকজন স্বস্তি পেলেও রোজগারে টান পড়ছে। কেননা মাঝপথেই কাজ ছেড়ে আসতে হচ্ছে শ্রমিকদের। সম্প্রতি সুতিতে জেলার প্রশাসনিক সভাতেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গলায় শোনা যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিহার, ওড়িশা প্রভৃতি রাজ্যগুলিতে কিভাবে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতো কান্দির বিভিন্ন গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারগুলির উৎকণ্ঠা আরও কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছিল। তাই পরিবারগুলি থেকে শ্রমিকদের বারবার অনুনয় করা হচ্ছিল তাঁরা যেন তাড়াতাড়ি সুস্থভাবে বাড়ি ফিরে আসার চেষ্টা করেন। এরপর গত কয়েকদিন ধরে কান্দির বিভিন্ন গ্রামে শ্রমিকদের বাড়ি ফিরে আসতে শুরু করেছেন। বুধবার বিকেলে ভরতপুর থানার আঙারপুর গ্রামের অন্তত আটজন শ্রমিক বিহার থেকে বাড়ি ফেরেছেন। তাঁরা মাসখানেক আগে সেখানে ঝরা চুল কেনার জন্য ফেরি করতে গিয়েছিলেন। আপেল শেখ নামে এক ফেরিওয়ালা জানান, আমরা যেখানে কাজ করছিলাম, সেখানে অবশ্য কোনও গণ্ডগোল ছিল না। কিন্তু বাড়ির লোক যা দুশ্চিন্তা করছিল, তাতে বাড়ি ফিরে আসতেই হল। মঙ্গলবার সকালে সালারের মাধাইপুর গ্রামের চারজন শ্রমিক মুম্বই থেকে বাড়ি ফেরেন। ওই চারজন প্রায় সাতমাস হল সেখানে একটি বহুতলের নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিলেন। পরিযায়ী শ্রমিক সবুজ শেখ বলেন, মুম্বইয়ে ঝামেলা হচ্ছে ঠিক। তবে আমাদের কোনও সমস্যা ছিল না। তবে আতঙ্কে ছিলাম। এর উপর পরিবারের চাপে বাড়ি ফিরতেই হল।



