নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাল শংসাপত্র কাণ্ডে এবার এক মিডল ম্যান গ্রেপ্তার। পাঠানখালি পঞ্চায়েতের চুক্তিভিত্তিক কর্মী গৌতম সর্দারের কাছে জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র চেয়ে তালিকা পাঠাত যে ব্যক্তি, তাকে গ্রেপ্তার করল সিকিওরিটি কন্ট্রোল। বুধবার রাতে সাঁতরাগাছি থেকে হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হাবিবুর মিডলম্যানের কাজ করত। তার সঙ্গে গৌতমের লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
পাসপোর্ট জালিয়াতির তদন্তে পাঠানখালি পঞ্চায়েতের চুক্তিভিত্তিক কর্মী গৌতম সর্দারের খোঁজ পান সিকিওরিটি কন্ট্রোলের অফিসাররা। জানা যায়, টাকার বিনিময়ে জন্মের শংসাপত্র তৈরি করে দিচ্ছেন ওই কর্মী। তাঁর মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়। গৌতমকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর ব্যাঙ্ক লেনদেন ঘেঁটে তদন্তকারীরা দেখেন, হাবিবুর নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা এসেছে। যার পরিমাণ কখনও ১৫ হাজার, কখনও ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি।
হাবিবুরের পরিচয় জানতে গৌতমকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তিনি তদন্তকারীদের জানান, হাবিবুর মিডলম্যান। সে অনুপ্রবেশকারী সহ কাদের জন্মের শংসাপত্র লাগবে তাদের জোগাড় করত। এরপর তাদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হতো বার্থ সার্টিফেকেট তৈরির জন্য। এই টাকা সে অন লাইনে গৌতমের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিত। হোয়াটসঅ্যাপে চলে যেত নামের তালিকা। সেই অনুযায়ী গৌতম বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে দিত। এগুলি পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে সংগ্রহ করত হাবিবুর। গৌতমের অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে আরও বেশ কয়েকজন মিডলম্যানের খোঁজ পাওয়া যায়। যারা তাঁকে টাকা পাঠিয়েছেন বলে ওই চুক্তিভিত্তিক কর্মী জানায়। ইস্যু করা বার্থ সার্টিফেকেট পাসপোর্ট আবেদনের সময় জমা পড়েছে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই হাবিবুর পালিয়ে যায়। তার মোবাইল বন্ধ ছিল। কয়েকদিন আগে অফিসারদের কাছে খবর আসে, হাবিবুর নতুন নম্বর ব্যবহার করছে। সেটি জোগাড় করে তার অবস্থান জানা যায়। সেই সূত্র ধরে জানা যায়, সে সাঁতরাগাছি এলাকায় রয়েছে। এরপরই সেখানে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
হাবিবুর জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, তার সঙ্গে সীমান্তে ‘ধূর পার্টির’ যোগাযোগ রয়েছে। সেখান থেকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের তথ্য পেত। দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরনো বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। তাদের বলত, আধার, ভোটার, বার্থ সার্টিফেকেট সহ সমস্ত নথি তৈরি হয়ে যাবে টাকার বিনিময়ে। এমনকী পাসপোর্ট পর্যন্ত করে দেবে। হাবিবুরের দাবি, এভাবে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্মের শংসাপত্র তৈরি করাত গৌতমের কাছ থেকে। আধার সেন্টার ম্যানেজ করে তৈরি করত আধার। এরপর পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য যে দালাল রয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট করিয়ে দিত।