নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জুন, ২০২৪। ত্রিশূর থেকে আগ্রা ক্যান্টনমেন্টগামী মিলেনিয়াম এক্সপ্রেস। লোয়ার বার্থে ঘুমোনোর সময় কেরলের বাসিন্দা আলি খান টিকের উপর ভেঙে পড়ে মিডল বার্থ। ঘাড় ভেঙে তৎক্ষণাৎ মৃত্যু।
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জুন, ২০২৪। ত্রিশূর থেকে আগ্রা ক্যান্টনমেন্টগামী মিলেনিয়াম এক্সপ্রেস। লোয়ার বার্থে ঘুমোনোর সময় কেরলের বাসিন্দা আলি খান টিকের উপর ভেঙে পড়ে মিডল বার্থ। ঘাড় ভেঙে তৎক্ষণাৎ মৃত্যু।
মে, ২০২৫। চেন্নাই-পালাক্কাড এক্সপ্রেস। লোয়ার বার্থে শুয়েছিলেন চেন্নাইয়ের বাসিন্দা সুরিয়া মুরুগান। আচমকাই তাঁর উপর ভেঙে পড়ে মিডল বার্থ। প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলা রেলযাত্রী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। প্রতি ক্ষেত্রেই কাঠগড়ায় রেলমন্ত্রক। অভিযোগের আঙুল উঠেছে রেলের আইসিএফ কোচের দিকে। ভারতীয় রেল নেটওয়ার্কের সব ট্রেনে অত্যাধুনিক এলএইচবি কোচ জুড়ে দেওয়ার একাধিক প্রতিশ্রুতির পরেও বহু ট্রেন চালানো হচ্ছে পুরনো আইসিএফ কোচেই। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে ক্রমশ রেলের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ট্রেনের মিডল বার্থ।
পরিস্থিতি অন্তত কিছুটা সামাল দেওয়ার উদ্দেশ্যে এবার ট্রেনের মিডল বার্থ ব্যবহারের নিয়মে কিছুটা কড়াকড়ি করতে চলেছে রেলমন্ত্রক। রেল বোর্ডের শীর্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে, রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ট্রেনে মিডল বার্থ ব্যবহার করতে পারবেন সাধারণ যাত্রীরা। বাকি সময় মিডল বার্থ ভাঁজ করেই রাখতে হবে। লোয়ার বার্থের যাত্রীদের যাতে কোনওরকম সমস্যায় পড়তে না হয়, তা বাধ্যতামূলকভাবে মাথায় রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর মিডল বার্থের যাত্রীদের অন্যদের সঙ্গে ‘অ্যাডজাস্ট’ করেই সফর করতে হবে। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, এই নিয়ম পালনে এবার ট্রেনে অন-বোর্ড নজরদারিতে আরও জোর দেওয়া হচ্ছে। রেল বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এটি আদতে যাত্রীদের কোর্টেই বল ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা কর্তৃপক্ষের। এর ফলে রেলের পক্ষে দায়িত্ব এড়ানো সহজ হবে। কারণ গত বছরের ঘটনায় একপ্রকার রেল যাত্রীদের দিকেই দায় ঠেলেছিল রেল। ঠিকমতো মিডল বার্থ শিকল দিয়ে আটকাতে না পারার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে, এমন তত্ত্ব খাড়া করা হয়েছিল। চলতি মাসের ঘটনায় ইতিমধ্যেই রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জিআরপিতে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা যাত্রীর স্বামী। তাঁর অভিযোগ, ট্রেনে টিটিইর কাছে ফার্স্ট এইড বক্স চেয়েও মেলেনি। পরিবর্তে তাঁদের পরবর্তী স্টেশনে নেমে যাওয়ার পরামর্শ দেন টিকিট পরীক্ষক। তবে এক্ষেত্রেও রেলের বক্তব্য, মিডল বার্থ ঠিকমতো না আটকানোর কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রশ্ন হল, যে সময়সীমার মধ্যে মিডল বার্থ ব্যবহারের নিয়মে জোর দিতে চাইছে রেল, সেই সময়ই মিডল বার্থ ভেঙে পড়ে ওই মহিলা যাত্রীর মাথায়। তখন কেন নজরদারি হয়নি? এর দায় কার—যাত্রী নাকি রেল কর্তৃপক্ষের!