সংবাদদাতা, খড়্গপুর: সাপে কামড়ানোর পর চুন লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আর সেই ঘুমই যেন হয়ে গেল 'শেষ-ঘুম'! হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হল বছর ৫৬ বছরের প্রৌঢ়ার। আজ, মঙ্গলবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সবংয়ের দাঁদরা অঞ্চলের নানকার নীলা-বাটিটাকি এলাকায়। মৃতার নাম দীপালি সামান্ত। ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে শুয়ে পড়েছিলেন দীপালিদেবী। আজ ভোরে বাড়ির বাইরে বেরোলে আচমকাই একটি বিষধর সাপ তাঁর পায়ে ছোবল দেয়। সাপের কামড়ের কথা পরিবারের সদস্যদেরও জানান তিনি। এরপর পায়ে চুন লাগিয়ে ফের ঘুমিয়ে পড়েন দীপালিদেবী। কিছুক্ষণ পরেই তাঁর হাত ও পায়ে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। এরপরই পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে সবং হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। সবং হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দীপালিদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুপুর নাগাদ তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় ফের একবার সাপের কামড় ঘিরে গ্রামাঞ্চলের মানুষজনদের অজ্ঞতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এল বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণ গবেষক রাকেশ সিংহদেব। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কালাচ বা কালোচিতি সাপ কামড় বসাতে পারে। এই সাপকে সাইলেন্ট কিলার বা নিঃশব্দ ঘাতক বলা হয়। কামড়ানোর পর কিছুই বোঝা যায়না। তবে, সময় নষ্ট করলেই বিপদ!
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, সাপে কামড়ানোর ক্ষেত্রে প্রথম একশো মিনিট খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময় নষ্ট করার ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে গেল। এনিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে বারবার সচেতন করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গ্রামের মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতনও হয়েছেন। সবংয়ের সাম্প্রতিক বন্যায় ১০ জনকে সাপে কামড়েছিল। সময়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় আমরা সকলকেই সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়েছি।