সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: স্বনির্ভর দলের মহিলাদের ঝামেলার জেরে প্রায় ছ’ মাস বন্ধ ছিল মিড ডে মিল। তালা বন্ধ ছিল রান্নাঘর। বৃহস্পতিবার তালা ভেঙে রান্না শুরুর উদ্যোগ নিলেন বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতি কাল্লাবতী কুমার। স্বনির্ভর দলের মহিলাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে এদিনই আলোচনা করেন সভাপতি। দীর্ঘদিন পরে মিড ডে মিল চালু হওয়ায় খুশি পড়ুয়া। ভাত, ডাল, তরকারির পাশাপাশি ডিম সেদ্ধও দেওয়া হয় পড়ুয়াদের।
প্রসঙ্গত, বলরামপুরের গেঁড়ুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রান্না করাকে কেন্দ্র করে স্বনির্ভর দলের মহিলাদের বিবাদে ৬ মাস ধরে বন্ধ ছিল মিড ডে মিল। ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত স্কুলে এলেও খালি পেটে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছিল। ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা শতাধিক। স্কুলে রান্নাঘর থেকে শুরু করে মিড ডে মিলের শেড রয়েছে। মিড ডে মিলের চালও মজুত রয়েছে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের নতুন স্বনির্ভর দলের মহিলারা ওই স্কুলে মিড ডে মিলে রান্নার কাজে যুক্ত হতে আবেদন করেন। কিন্তু পুরনোরা বেঁকে বসেন। জানা গিয়েছে, নতুন করে ৮টি স্বনির্ভর দলের সদস্যরা স্কুলের রান্নার কাজে যুক্ত হতে চেয়ে আবেদন করেন। নতুন দলের মহিলারা রান্না করার সুযোগ না পেয়ে রান্নাঘরে তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ। স্কুলের টিআইসি রাকেশ রজক বলেন, মিড ডে মিল কারা রান্না করবেন সে বিষয়ে স্কুলের কিছুই করণীয় নেই। ব্লক এবং জেলা প্রশাসনই বিষয়টি ঠিক করে। তিনি আরও বলেন, স্কুলে প্রায় ছ’ মাস ধরে মিড ডে মিল বন্ধ ছিল। গ্রামেরই নতুন আটটি গ্রুপ রান্না করার ইচ্ছে প্রকাশ করে আবেদন করে। সে আবেদনের অনুমোদন না আসাতেই বন্ধ ছিল। এদিন ফের চালু হল।
বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কাল্লাবতী কুমার বলেন, স্কুলের রান্না বন্ধ থাকা কোনমতেই উচিত নয়। আগে অন্য একটি স্কুলে এরকম সমস্যা ছিল। ওই স্কুলে সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গেঁড়ুয়া প্রাথমিক স্কুলের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এদিন স্কুলে গিয়ে রান্নাঘরের ওই তালা ভাঙা হয়। তারপর নিজেই ঝাড়ু হাতে নিয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করি। রান্নার কাজে যুক্ত অন্যান্য মহিলারা আসেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। তারপরে রান্নার কাজ শুরু হয়। শিশুরা দিনের পর দিন খালি পেটে থাকবে এটা হতে পারে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বনির্ভর দলের মহিলাদের সঙ্গে আলোচনায় নতুনদেরও রান্না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনে রান্নার জন্য মোট যে টাকা আসবে সেই টাকা দিয়েই সব গ্ৰুপ মিলেই রান্না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলতে চাননি।