


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি গৌড়বঙ্গের স্কুলগুলিতে। দ্রুত ফুরিয়ে আসছে মিড ডে মিল রান্নার গ্যাস। কিছু স্কুলে ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাস বাড়ন্ত। ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ড্রাই ফ্রুটস। পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে, তাতে জরুরি ভিত্তিতে এলপিজি সিলিন্ডার জোগাড় করা গেলেও তাতে কতদিন কুলানো যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। নড়েচড়ে বসেছেন শিক্ষা প্রশাসনের আধিকারিকরাও। স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের জ্বালানি গ্যাসের কী পরিস্থিতি, তা নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে গৌড়বঙ্গের তিন জেলাতেই।
এদিন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলে মিড ডে মিল রান্না করতে গিয়ে ফুরিয়ে যায় গ্যাস। আর সিলিন্ডার জোগাড় করতে পারেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাই পড়ুয়াদের ড্রাই ফ্রুটস দেওয়া হয়েছে এদিন। জেলার আরো অনেক স্কুলে জ্বালানি নিয়ে শুরু হয়েছে বিকল্প ভাবনা। গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য জ্বালানি দিয়ে রান্না হলেও শহরাঞ্চলের স্কুলগুলির অধিকাংশ সিলিন্ডার গ্যাসের উপর নির্ভর করে। বালুরঘাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রীজিত সাহা বলেন, আজ রান্না করতে গিয়ে গ্যাস ফুরিয়ে গিয়েছিল। ফলে রান্না করা যায়নি স্কুলে। পরিবর্তে বাচ্চাদের ড্রাই ফ্রুটস দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি গ্যাসের সিলিন্ডার জোগাড় করেছি। বৃহস্পতিবার রান্না করা খাবার দেওয়া হবে। বালুরঘাট শহরের আশুতোষ বালিকা বিদ্যালয়েও চিন্তায় শিক্ষিকারা। প্রধান শিক্ষিকা পম্পা দাসের কথায়, আমাদের কাছে যা গ্যাস রয়েছে, খুব বেশি হলে তিনদিন রান্না করা সম্ভব। গ্যাস বুক করেছি, কিন্তু কবে আসবে জানি না। শেষপর্যন্ত কী হবে বলা মুশকিল।
ডিপিএসসির চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদা বলেন, গ্যাসের সংকট শুরু হয়েছে বলে অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ সমস্যায় পড়েছে। আমাকে অনেকেই ফোন করছেন। এরকম চলতে থাকলে খুব মুশকিল।
মালদহের ইংলিশবাজার ব্লকের শোভানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৩০০ ছাত্রছাত্রী মিড ডে মিল খায়। মাসে এলপিজি সিলিন্ডার লাগে ৮টি। প্রধান শিক্ষক হরিস্বামী দাস বলেন, বৃহস্পতিবার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পরিচালন সমিতির সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। একটা উপায় তো বের করতে হবে।
সিলিন্ডার শেষ হওয়ার ২৫ দিন আগে বুক করা সম্ভব না হলে সমস্যা বাড়বে বলে জানিয়েছেন জোত আরাপুর টিপাজানি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মানসী দত্ত। এপ্রসঙ্গে মালদহের জেলা শিক্ষা আধিকারিক সন্দীপ রায় বলেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারপার্সন বাসন্তী বর্মন জানান, সিলিন্ডারের অভাব সংক্রান্ত বিষয় এখনও নজরে আসেনি। তবে, খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
উত্তর দিনাজপুরের বাঙালবাড়ি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণেন্দু রায় বলেন, এখনও আমাদের স্কুলে মিড ডে মিল রান্নার গ্যাস পর্যাপ্ত রয়েছে। তাই সংকট টের পাচ্ছি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। যা উদ্বেগের বিষয়।