Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

মাঝআকাশে বিপর্যয়: ৫৮৩  জনের মৃত্যু!

মাঝআকাশে বিপর্যয়: ৫৮৩  জনের মৃত্যু!
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

‘তেনেরিফে বিপর্যয়’! ঠিক ৪৮ বছর আগে ঘটেছিল ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম বিমান দুর্ঘটনাটি। তারিখটা ১৯৭৭ সালের ২৭ মার্চ। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল সংলগ্ন কানারি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ তেনেরিফে তখন বিকেল।  দ্বীপপুঞ্জটি স্পেনের অধীন হলেও স্বায়ত্তশাসিত। সেখানকার আর এক গ্র্যান ক্যানারিয়ার লাস পালমাস থেকে ওড়ার কথা ছিল দু’টি বোয়িং ৭৪৭ বিমানের। কিন্তু বিধি বাম! লাস পালমাসে জঙ্গি হামলা ঘটে ঠিক সেদিনই। সব বিমান ঘুরিয়ে লস রোডেওস বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেটা তুলনামূলক ছোট বিমানবন্দর। শুধু স্থানীয় ফ্লাইট ওড়ে। তাছাড়া সেদিন আবার ছিল রবিবার। ছুটির দিন। বিমান চলাচলও কম। কন্ট্রোল টাওয়ারের দায়িত্বে ছিলেন মাত্র দু’জন। বিমানবন্দরের চারপাশে আবহাওয়া ছিল খুবই খারাপ। আকাশে মেঘ জমছিল। কুয়াশাও ক্রমে ঘন হয়ে আসছিল। কম দৃশ্যমানতার জেরেই রানওয়েতে দাঁড়ানো একটি বিমানে সরাসরি গিয়ে ধাক্কা মারে অপর একটি প্লেন। দু’টিই ছিল বোয়িং ৭৪৭। মুহূর্তে বিস্ফোরণ। প্রাণ হারান দু’টি বিমানের ৫৮৩ জন যাত্রী। ৬১ জনকে জীবিত ছিলেন।

Advertisement

কী হয়েছিল? কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৪৮০৫ উড়ানের জন্য এগতে শুরু করেছিল। রানওয়েতে তখন দাঁড়িয়ে প্যান অ্যামেরিকান ওয়ার্ল্ড এয়ারওয়েজের (প্যান অ্যাম) ফ্লাইট ১৭৩৬। ৫৩টি শিশু সহ ২৩৪ জন যাত্রীকে নিয়ে সরাসরি তার পেটে গিয়ে ধাক্কা মারে কেএলএম বিমানটি। প্যান এম বিমানে ছিলেন ৩৮০ যাত্রী ও ১১ ক্রু। সংঘর্ষে কেএলএমের সব যাত্রী ও ক্রু মারা যান। প্যান অ্যাম বিমানের সামনের দিকে বসা ৬১ আরোহী শুধু বেঁচে ছিলেন। আবহাওয়াই এই দুর্ঘটনার সব থেকে বড় কারণ বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তদন্তে জানা যায়, কন্ট্রোল টাওয়ারের নির্দেশ ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি কেএলএমের পাইলট। তাতেই দুর্ঘটনা ঘটে। কেএলএম ক্যাপ্টেন যখন প্যান অ্যাম উড়োজাহাজটিকে দেখতে পান, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ককপিটের ভয়েস রেকর্ডারে প্যান অ্যাম পাইলট ভিক্টর গ্রাবসের শেষ কথা স্পষ্ট শোনা যায়, ‘ওই যে সে, আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে।’ তারপরই সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা...!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ