Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহিষাদল রাজ কলেজের মিলন মেলায় প্রাক্তনীদের স্মৃতিতে ডুব

মহিষাদল রাজ কলেজের মিলন মেলায় প্রাক্তনীদের স্মৃতিতে ডুব
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, হলদিয়া: রবিবার মহিষাদল রাজ কলেজ প্রাঙ্গণে প্রাক্তনীদের মিলনমেলা হল। বিভিন্ন বয়সি আট শতাধিক প্রাক্তনীর এমন সমাবেশ দেখে মুগ্ধ অতিথিরাও। এবার ১৩তম দ্বিবার্ষিক প্রাক্তনী পুনর্মিলন উৎসবে মহিলাদের উপস্থিতি সবার নজর টেনেছে। কলেজে পড়া শেষের পর ক্লাসের প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে আবার দেখা হয়েছে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর বা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে। একে অপরকে দেখে কেউ চিনতে পারছেন, কেউ আবার বেমালুম ভুলে গিয়েছেন। পুনর্মিলন উৎসব প্রাক্তনীদের ফিরিয়ে দিল সদ্য যৌবন শুরুর সেই মধুর দিনগুলিতে। কলেজ জীবনের খুনসুটির কথা মনে করে কেউ হাসছেন, একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন, আবার কারও চোখে বন্ধুকে ফিরে পাওয়ার আনন্দাশ্রু। স্মৃতিপথে তাঁরা কেউ ফিরলেন ষাট, সত্তর কিংবা আশির দশকে। তরুণ প্রাক্তনীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মাতলেন প্রবীণ প্রাক্তনীরা। প্রাক্তনীরা বলেন, পুনর্মিলন আসলে বন্ধুতার এক উৎসব। এই মেলবন্ধনের ফলে মনের সজীবতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। 
Advertisement
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও প্রাককথনের পর এদিন প্রাক্তনীদের স্মৃতিচারণের জন্য মঞ্চে সময় নির্দিষ্ট ছিল। সেই সময়ের বাঁধ ভেঙে প্রাক্তনীরা পুরনো স্মৃতিকথার সঙ্গে বেশকিছু পরামর্শও দিলেন। কলেজের পঠনপাঠনের উন্নতিতে সেগুলি খুবই কার্যকরী হবে মনে করেন রাজ কলেজের প্রিন্সিপাল গৌতমকুমার মাইতি। তিনি বলেন, ন্যাকের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রাক্তনীদের পরামর্শ খুবই কাজে লেগেছে। 
রাজ কলেজের প্রাক্তনী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হরিপদ মাইতি, অধ্যাপক সুবোধচন্দ্র মাইতি এদিন বক্তব্যের সময় প্রাক্তনীদের উদ্যোগে তিনটি নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য অবৈতনিক বিশেষ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। ছাত্রছাত্রীদের কর্মসংস্থানের দিশা দেখাতে শুরু হচ্ছে এমপ্লয়মেন্ট কাউন্সেলিং। পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশের জন্য ত্রৈমাসিক সেমিনারের ব্যবস্থা করা হবে। মহিষাদলের বিধায়ক এবং কলেজের প্রাক্তনী তিলক চক্রবর্তী বলেন, রাজ কলেজের ইতিহাস নিয়ে একটি গ্যালারি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, তিলকবাবু বর্তমানে কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি।
প্রাক্তনী অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ ও মৃদুল দাস বায়েন বলেন, প্রাক্তনীরা চাঁদা তুলে কলেজের উন্নয়নে একটি তহবিল তৈরি করেছেন। এবার সেই তহবিল থেকে কলেজকে একটি ৭৫ইঞ্চি স্মার্ট বোর্ড এবং লেকচার পোডিয়াম উপহার দিয়েছি প্রাক্তনীরা। কলেজের ফিজিক্স রুমে ওই স্মার্টবোর্ড লাগানো হবে। প্রাক্তনী সংগঠনের কর্মকর্তা শশাঙ্ক শেখর মাজি, বিশ্বনাথ ত্রিপাঠী বলেন, প্রাক্তনীরা তহবিল গড়ে এর আগে ১১লক্ষ টাকা খরচে একটি পঠনপাঠনের জন্য ব্লক তৈরি করে দিয়েছে। কলেজের বিভিন্ন ফ্লোরে পরিস্রুত ঠান্ডা জলের ব্যবস্থা করেছে। এদিন ‘বাঙালি নারীর মন, সেকাল-একাল’ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে মুগ্ধ করেছেন প্রবীণ অধ্যাপিকা রুশতি সেন। তিনি উনিশ শতকে লেখা প্রথম বাঙালি মহিলা রাসসুন্দরী দাসী’র আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা ‘আমার জীবন’ লেখার ইতিহাস তুলে ধরে মহিলাদের মনের কথা বলার পরম্পরা বিশ্লেষণ করেন। ‘নাগরিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রতিকার’ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন ওয়েস্টবেঙ্গল হেল্থ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপিকা ঝিলম বন্দ্যোপাধ্যায়।-নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ