সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ডিভিসি কর্তৃপক্ষ নিতুড়িয়ার পাঞ্চেত জলাধার তথা মহেশ নদের উপর ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট করতে চাইছে। বুধবার কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফকে নিয়ে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ এলাকায় প্রজেক্টের কাজ করতে যায়। কোনওভাবেই মহেশ নদীর উপর সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট করতে দেওয়া হবে না বলে এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ করে। পাশাপাশি এ’দিন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন ধামসা-মাদল নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। আন্দোলনের চাপে আধিকারিকরা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। যতদিন না পর্যন্ত প্রজেক্ট বাতিল করা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। রঘুনাথপুরের মহকুমা শাসক বিবেক পঙ্কজ বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
Advertisement
প্রসঙ্গত এই মহেশ নদের দুই পাড়ে রয়েছে মোট চারটি পঞ্চায়েত এলাকা। নদের একপাড়ে রয়েছে গুনিয়াড়া, রায়বাঁধ পঞ্চায়েত ও অপর পাড়ে রয়েছে, সড়বড়ি, জনার্দণ্ডি পঞ্চায়েত এলাকা। যেকোনও কাজে নৌকায় যাতায়াত করেন ওই চারটি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা। এছাড়া জলাধারে মাছ ধরে যেসব মৎস্যজীবী সংসার চালান তাঁরাও সমস্যায় পড়বেন। আর কেউ নৌকায় না গেলে তাঁকে ২০ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হবে। সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট হলে নদে নৌকা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে অসুবিধায় পড়বেন সকলেই। সেজন্যই এদিন বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডিভিসি(পাঞ্চেত) কর্তৃপক্ষ দামোদর নদের ওপর বাঁধ দিয়ে পাঞ্চেৎ জলাধার নির্মাণ করে। সেই জলাধারের জল কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ডিভিসি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পাঞ্চেত জলাধারের মহেশ নদের উপর সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সেই প্রজেক্টের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। সেই খবর এলাকায় পৌঁছতেই বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এলাকার চালমারা, কেলিয়াসোতা, পুয়াপুর, গুনিয়াড়া সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে যায়। তাঁরা আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। কর্তৃপক্ষ চাপে পড়ে মেশিনপত্র নিয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। ফলে কাজ আপাতত বন্ধ।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহেশ নদে সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট হলে পাঁচ থেকে ছ’হাজার মানুষ রুজিরুটি হারাবে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে মহেশ নদের উপর একটি সেতুর দাবি রয়েছে। কিন্তু সেই সেতু আজও তৈরি হয়নি। বিক্ষোভে শামিল রাজেন টুডু, বুদ্ধেশ্বর বেসরা, মহম্মদ আফজল বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার ১২০ মৌজার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে পাঞ্চেত জলাধার নির্মাণ করেছিল। সহায় সম্বলহীন ওই মৌজার আদিবাসী ও অন্যান্যরা পাঞ্চেত জলাধারে মাছ ধরে জীবনযাপন শুরু করে। এখন সেখানে সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট হলে তাঁদের জীবন, জীবিকাও ধ্বংস হবে। তাই কোনওভাবেই প্রজেক্ট করতে দেওয়া যাবে না।
এবিষয়ে নিতুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা শান্তিভূষণ প্রসাদ যাদব বলেন, ডিভিসিকে কোনওভাবেই ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট করতে দেওয়া হবে না। পঞ্চায়েত সমিতি কাজের বিরোধিতা করেছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
রঘুনাথপুরের বিজেপি বিধায়ক বিবেকানন্দ বাউরি বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট কতটা উপকার হবে সেই বিষয়টি দেখতে হবে। এলাকার বাসিন্দাদের অসুবিধা হোক এমন কাজ নিশ্চয়ই করা হবে না। অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে ডিভিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে ডিভিসি সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট নির্মাণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডিভিসি(পাঞ্চেত) কর্তৃপক্ষ দামোদর নদের ওপর বাঁধ দিয়ে পাঞ্চেৎ জলাধার নির্মাণ করে। সেই জলাধারের জল কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ডিভিসি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পাঞ্চেত জলাধারের মহেশ নদের উপর সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সেই প্রজেক্টের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। সেই খবর এলাকায় পৌঁছতেই বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এলাকার চালমারা, কেলিয়াসোতা, পুয়াপুর, গুনিয়াড়া সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে যায়। তাঁরা আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। কর্তৃপক্ষ চাপে পড়ে মেশিনপত্র নিয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। ফলে কাজ আপাতত বন্ধ।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহেশ নদে সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট হলে পাঁচ থেকে ছ’হাজার মানুষ রুজিরুটি হারাবে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে মহেশ নদের উপর একটি সেতুর দাবি রয়েছে। কিন্তু সেই সেতু আজও তৈরি হয়নি। বিক্ষোভে শামিল রাজেন টুডু, বুদ্ধেশ্বর বেসরা, মহম্মদ আফজল বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার ১২০ মৌজার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে পাঞ্চেত জলাধার নির্মাণ করেছিল। সহায় সম্বলহীন ওই মৌজার আদিবাসী ও অন্যান্যরা পাঞ্চেত জলাধারে মাছ ধরে জীবনযাপন শুরু করে। এখন সেখানে সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট হলে তাঁদের জীবন, জীবিকাও ধ্বংস হবে। তাই কোনওভাবেই প্রজেক্ট করতে দেওয়া যাবে না।
এবিষয়ে নিতুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা শান্তিভূষণ প্রসাদ যাদব বলেন, ডিভিসিকে কোনওভাবেই ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট করতে দেওয়া হবে না। পঞ্চায়েত সমিতি কাজের বিরোধিতা করেছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
রঘুনাথপুরের বিজেপি বিধায়ক বিবেকানন্দ বাউরি বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট কতটা উপকার হবে সেই বিষয়টি দেখতে হবে। এলাকার বাসিন্দাদের অসুবিধা হোক এমন কাজ নিশ্চয়ই করা হবে না। অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে ডিভিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে ডিভিসি সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট নির্মাণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি।



