নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বাড়ির গাছ কাটা নিয়ে মা ও ছোট ছেলের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়েছিল। এরপর মাকে শাবল দিয়ে কোপানোর দায়ে ছেলেকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দিল মেদিনীপুরের তৃতীয় অতিরিক্ত দায়রা আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারক কুসুমিকা দে মিত্র দোষী ব্যক্তিকে ১০বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ১০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ছ’মাস কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষী রতন জানার বাড়ি মোহনপুর থানার তনুয়া গ্রামে। এক বছরের মাথায় আদালত সাজা ঘোষণা করায় খুশি পরিবারের সদস্যরা। সরকারি আইনজীবী মৃন্ময় ঘোষ বলেন, ৩২৫ ধারায় পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সব সাজা একসঙ্গে চলবে।
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মোহনপুর থানার তনুয়া গ্রামে বসবাস করেন জয়ন্তী জানা। তাঁর বাড়ির লাগোয়া জমিতে বেশ কয়েকটি গাছ ছিল। সেই গাছ বিক্রি করতে চেয়েছিল ছেলে রতন। কিন্তু গাছ বিক্রি করতে বাধা দেন জয়ন্তীদেবী। ২০২৩ সালের ৩ জুলাই রতন গাছ কাটবে বলে মাকে হুমকি দেয়। এমনকী মাকে মেরে ফেলার পর সেই গাছ বিক্রি করবে বলে হুমকি দেয় রতন। সেইদিন বিকেলেই রতন মায়ের উপর আক্রমণ করে। প্রথমে মায়ের কোমরে আঘাত করে। জয়ন্তীদেবী ছিটকে পড়ে গেলে শাবল দিয়ে মায়ের মাথায় কোপ দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় জয়ন্তীদেবীর চিৎকারে ছুটে আসেন বড় ছেলে গৌতম জানা। শাবল ফেলে পালিয়ে যায় রতন। তড়িঘড়ি জখম বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহনপুর বাগদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলে। বরাতজোরে প্রাণে রক্ষা পেয়ে যান জয়ন্তীদেবী।



