Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহম্মদবাজারে মা সহ দুই শিশুর হত্যাকাণ্ডে প্রকাশ্যে পরকীয়া তত্ত্ব

মহম্মদবাজারে মা সহ দুই শিশুর হত্যাকাণ্ডে প্রকাশ্যে পরকীয়া তত্ত্ব
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মহম্মদবাজারের ম্যানেজার পাড়ায় মা সহ দুই শিশুর হত্যাকাণ্ডে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কের তত্ত্ব ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। প্রথম দিকে ধৃত মূল অভিযুক্ত নয়ন টাকা-পয়সা নিয়ে অশান্তির গল্প ফেঁদেছিল। কিন্তু, হাড়হিম করা ঘটনার তদন্তের জাল যতই গোটাচ্ছে পুলিস, ততই ফাঁস হয়ে পড়ছে মৃতা লক্ষ্মীর সঙ্গে নয়নের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা। এদিকে, মঙ্গলবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। যে ঘরে খুনের ঘটনা ঘটেছিল, সেখান থেকে একধিক নমুন সংগ্রহ করেন তারা। আজ, বুধবার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি টিম আসার কথা বলে পুলিস সূত্রে খবর। জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন। দ্রুত গতিতে ঘটনার তদন্ত চলছে।’ তবে, ঘটনার পাঁচদিন পরও খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস। গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে লক্ষ্মী সহ তাঁর দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। পরের দিন সকালে ঘটনাটি জানাজানি হয়। তার ঠিক ১২ ঘন্টার মধ্যেই পুলিস নয়ন ও সুনীল নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। পুলিস একরকম নিশ্চিত নয়নই এই হত্যাকাণ্ডের মুল মাস্টার মাইন্ড। তাকে আশ্রয় দিয়েছিল সুনীল। বর্তমানে দু’জনেই পুলিসি হেপাজতে। ধৃতদের ম্যারাথন জেরা করছেন তদন্তকারীরা। তাতেই একে একে উঠে আসছে বিস্ফোরক তথ্য। 
Advertisement
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নয়নের বাড়ি মল্লারপুর থানা এলাকায়। সুইপারের কাজ করে সে। সেই সূত্রে লক্ষ্মীর সঙ্গে আলাপ। তারপর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে দু’জনেই। লক্ষ্মী বিবাহিত হলেও স্বামীর সঙ্গে থাকতেন না। স্বামী তাঁকে ছেড়ে নতুন সংসার পেতেছিলেন। নয়নও বিবাহিত। তার সন্তানও রয়েছে। তা সত্ত্বেও লক্ষ্মীর সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল সে। এই সম্পর্কের মেয়াদ ছিল মাত্র দশমাস। কিন্তু, কী কারণে লক্ষ্মী সহ তাঁর দুই সন্তানকে খুনের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নয়ন, তা এখনও অন্ধকারে তদন্তকারী অফিসাররা। এক্ষেত্রে, সম্ভাব্য দু’টি কারণ খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। এক, নয়নের পারিবারিক কারণে সম্পর্কে অবনতি হয়ে থাকতে পারে। দুই, সম্পর্কের মধ্যে টাকা-পয়সা লেনদেনের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিন সকালে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। জানা গিয়েছে, ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন বস্তু থেকে একাধিক আঙুলের ছাপের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সেইসব নমুনার সঙ্গে নয়নের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখা হবে বলে পুলিস সূত্রে খবর। একই সঙ্গে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন। আজ, বুধবার তাঁদের আসার কথা। স্বভাবতই ঘটনাস্থলটি পুলিসের ঘোরাটোপেই রয়েছে। অন্যদিকে, ম্যানেজার পাড়ার হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজনীতির ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছিল গেরুয়া শিবির। বিজেপির স্থানীয় নেতারা দাবি করে আসছিলেন, ঘটনার সঙ্গে একাধিক লোক জড়িত রয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত তদন্তের যা অগ্রগতি তাতে নয়ন ছাড়া আরও কোনও ব্যক্তির যোগসূত্র মেলেনি বলে পুলিস জানিয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ