Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহিলাদের বিপদ থেকে রাত বিরেতে হার্ট অ্যাটাক থানায় সাইরেন বাজাবে খুদের তৈরি ডিভাইস

মহিলাদের বিপদ থেকে রাত বিরেতে হার্ট অ্যাটাক থানায় সাইরেন বাজাবে খুদের তৈরি ডিভাইস
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সৌম্যদীপ ঘোষ, সিউড়ি: বিপদে পড়লে থানায় বেজে উঠবে সাইরেন! আর সেই বিপদের মোকাবিলা না করা পর্যন্ত বাজতেই থাকবে। ফাঁকা রাস্তায় কোনও যুবতী বিপদে পড়েছেন, তাঁকে টোন-টিটিকিরি করা হচ্ছে কিংবা তাঁর সঙ্গে খারাপ কিছু আচরণ করা হচ্ছে, তৎক্ষণাৎ সেই অসহায় যুবতীকে সহযোগিতার বার্তা থানায় পৌঁছে দেবে সাইরেন। এমনকী, বাড়িতে একা রয়েছেন, গভীর রাতে প্যানিক হার্ট অ্যাটাক হল কিংবা স্ট্রোক—সেই বার্তাও চলে যাবে থানায়। শুধু বাড়িতে কিংবা কাছে রাখতে হবে একটি ছোট্ট ইলেক্ট্রিক ডিভাইস। যেটা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক খুদে। নাম অনুরাগ মজুমদার। বিজ্ঞানের প্রতি অনুরাগের এমন অনুরাগ দেখে তাকে ‘বিস্ময় বালক’ বলে অভিহিত করেছেন বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায়। অনুরাগের বয়স মাত্র দশ বছর। লাভপুরের পশ্চিম কাদিপুর জুনিয়ার হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সে। বিডিও অফিস পাড়াতে বাড়ি। আগে একটি ইংরেজি স্কুলে পড়লেও নিজের আগ্রহে সে ভর্তি হয়েছে সরকারি বাংলা স্কুলে। তার বাবা মুক্তিশ্বর মজুমদার গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজ করেন। ছোট থেকেই অনুরাগের মেধা তাজ্জব লাগিয়ে দেয় সকলকে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও আমেরিকার ক্রেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত দশম শ্রেণির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি সমস্ত বিষয়ই এখন থেকেই তুখোড় সে। একেবারে নিজস্ব কিছু ভাবনা ও যন্ত্রাংশের সাহায্য নিয়ে ‘হিউমেন সিকিউরিটি অ্যালার্ট’ নামে ওই ডিভাইসটি বানিয়ে ফেলেছে সে। প্রশাসনের আধিকারিকরা বলছেন, জেলার এই খুদের যত্ন নিলে রত্ন হওয়া কে আটকায়!স্থানীয় বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা তাকে সম্প্রতি নিয়ে আসেন জেলাপ্রশাসনের কাছে। বিধায়কের কাছে অনুরাগের আব্দার ছিল, তাকে পড়াশোনার জন্য কলেজের লাইব্রেরি ব্যবহার করতে দিতে হবে। সেই কারণেই জেলাপ্রশাসনের দ্বারস্থ। সিউড়ির সার্কিট হাউসে সকলের সামনে সে একজন অভিজ্ঞ বিজ্ঞানের অধ্যাপকের মতো নানা বিষয় তুলে ধরে। প্রথমে জেলাশাসক বিধান রায়কে জানায় তার তৈরি করা ডিভাইসের কথা। নাম দিয়েছে ‘রাজলক্ষ্মী’ (আর এল) সিস্টেম। রাজলক্ষ্মী তার বোনের নাম। 
Advertisement
আরএল সিস্টেমে প্রত্যেকের কাছে একটি যন্ত্র থাকবে। যা মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে। কোনও বিপদ হলেই সেই যন্ত্রের সুইচ টিপলেই সংকেত চলে যাবে পুলিসের কাছে। ওই এলাকাটি কোনও নিকটবর্তী থানার তা দেখবেন আধিকারিকরা। এরপর অতি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্তকে রেসকিউ করতে পারবে পুলিস। একেবারে জিও লোকেশনের সঙ্গে তা যুক্ত করা রয়েছে। অনুরাগের আবিষ্কার করা সেই যন্ত্র দেখে তাজ্জব সকলে। শুধু তাই নয় এরপর সে বলে, আর কী কী করেছে। মানুষের জন্মবৃত্তান্ত থেকে ক্যান্সার কোষকে কীভাবে নষ্ট করা যায়, এসব নিয়েও সে কাজ শুরু করে দিয়েছে অনুরাগ। শুধু তাই নয়, বর্তমান সময়ের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়েও সে পড়াশোনা করছে। জেলাশাসক বলেন, জেলার একটি বিস্ময় বালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হল। বিজ্ঞানের মূল জিনিসগুলো ও এখনই শিখে ফেলেছে। মানবকল্যাণে  ওর যে আবিষ্কার তা আরও চমকে দেওয়ার মতো। বেশ কিছু সায়েন্স ফেয়ারে তা দেখিয়েছে। ও অনেক দূর এগবে। বিধায়ক বলেন, আমাদের কাছে আবেদন রেখেছে যদি কলেজের লাইব্রেরি ও ব্যবহার করতে পারে। আমরা সেটার ব্যবস্থা করছি। কারণ ও ঠিকপথে এগলে দেশের সম্পদ হয়ে উঠবে। অনুরাগের বাবা বলেন, গোটা বিশ্বে ১১৮টি মৌলের নাম ৪৭ সেকেন্ডের মধ্যে বলার জন্য রেকর্ড রয়েছে। অনুরাগ ৪০ সেকেন্ডেই এখন বলতে পারে। ছেলে ঠিক পথে যাক সেটাই তো চাই।
সম্পর্কিত সংবাদ