নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পানীয় জলের পাইপ লাইনের অবৈধ সংযোগ কাটতে গিয়ে ভাতারের এরুয়ার এলাকায় প্রমীলা বাহিনীর বাধার মুখে পড়লেন সরকারি কর্মী ও আধিকারিকরা। ওই এলাকায় সরকারি ট্যাপকল থেকে ১০টি পরিবার মোটর লাগিয়ে ট্যাঙ্কে জল তুলছিল। খবর পেয়ে সরকারি অফিসার ও কর্মীরা শুক্রবার এলাকায় যেতেই প্রমীলা বাহিনী তাঁদের ঘিরে ধরে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ, অবৈধ সংযোগ কাটতে হবে। তাই শনিবার পুলিস বাহিনী নিয়ে পিএইচইর অফিসার ও কর্মীরা ফের সেই এলাকায় অভিযানে যান। এদিনও মহিলারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রচুর পুলিস থাকায় সরকারি কর্মীদের পিছু হটতে হয়নি। তাঁরা অবৈধ সংযোগ কেটে ফিরে আসেন। এরপর ফের ওই পরিবারগুলি সংযোগ নিলে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় দেড় হাজারের বেশি অবৈধ সংযোগ ইতিমধ্যেই কাটা হয়েছে। জল জীবন মিশন প্রকল্পে সরকার প্রতিটি গ্রামেই পাইপলাইন পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু অনেক জায়গাতেই জল চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেকারণে পাইপ লাইন থাকলেও বহু পরিবার এখনও জল পাচ্ছে না। এই অভিযোগ পেয়ে প্রশাসন তদন্ত নামে। পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বহু গ্রামে পাইপলাইনের জল ট্যাঙ্কে তোলা হচ্ছে। সরকার প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল সরবরাহের জন্যই এই প্রকল্প নিয়েছে। কিন্তু ট্যাঙ্কে জল তুলে তা বাড়ির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বহু জায়গায় অকারণে জল নষ্ট করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানীয় জল চাষের কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে প্রশাসন জানতে পেরেছে। সেই সংযোগগুলি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বর্ধমান(উত্তর) এর মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস বলেন, অবৈধ সংযোগ কাটতে গিয়ে ভাতারে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তার সমাধান হয়ে গিয়েছে। কোথাও জলের অপচয় করতে দেওয়া হবে না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় অবৈধ সংযোগের সংখ্যা শূন্যে নামানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে। পুলিস পিএইচই এবং অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকরাও লাগাতার অভিযান চালাচ্ছেন। আরও কয়েকদিন টানা অভিযান চলবে। ভাতার ছাড়া জেলার অন্য কোথাও জলের পাইপ লাইনের অবৈধ সংযোগ কাটতে গিয়ে আধিকারিকদের বাধার মুখে পড়তে হয়নি। ভাতারে ওই ১০টি পরিবার মহিলাদের এগিয়ে দেয়। সরকারি কর্মী এবং আধিকারিকদের বেশ কিছুক্ষণ ঘেরাও করে রাখে। পুলিসের মহিলা বাহিনী না থাকায় তাদের কিছু হটতে হয়।
এক আধিকারিক বলেন, ওই পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা আবার অবৈধ সংযোগ করছে কি না সেটাও নজর রাখা হবে। ওই ১০টি পরিবারের নাম জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এক আধিকারিক বলেন, ওই পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা আবার অবৈধ সংযোগ করছে কি না সেটাও নজর রাখা হবে। ওই ১০টি পরিবারের নাম জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।



