Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহকুমাজুড়ে চা বাগানে ক্রমশ বাড়ছে চিতাবাঘের সংখ্যা! গণনার দাবি

মহকুমাজুড়ে চা বাগানে ক্রমশ বাড়ছে চিতাবাঘের সংখ্যা! গণনার দাবি
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: শিলিগুড়ি মহাকুমা এলাকার চা বাগানে বাড়চ্ছে চিতাবাঘের সংখ্যা। এমনই দাবি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির। যদিও, সঠিক পরিসংখ্যান নেই বনদপ্তরের কাছে। সংঘাত এড়াতে চলছে সচেতনতামূলক প্রচার। এজন্য সরকারিভাবে চা বাগানের চিতাবাঘের সংখ্যা নথিভুক্ত করতে গণনার দাবি তুলেছে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি। নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ব্লকে রয়েছে বেশ কয়েকটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। যা ঘেঁষে রয়েছে একাধিক চা বাগান। ওই দু’টি ব্লকেই নয়, ফাঁসিদেওয়া এবং মাটিগাড়া ব্লকের চা বাগানেও রয়েছে চিতাবাঘের আতঙ্ক। 
Advertisement
পশুপ্রেমী সংগঠন এনএইচডব্লুও-র সদস্য সন্দীপ সরকার বলেন, চলতি বছরে মহকুমার দু’টি চা বাগানে চিতাবাঘের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। চা বাগান সংলগ্ন রাস্তায় গাড়ি ধাক্কায় দুটি চিতাবাঘের মৃত্যু হয়েছে। চা বাগান এলাকায় চিতাবাঘের সংখ্যা বাড়ছে। শিলিগুড়ি মহাকুমার চা বাগানগুলিতে আনুমানিক প্রায় দেড়শোর মত চিতাবাঘ রয়েছে। মাঝেমধ্যেই চিতাবাঘের আতঙ্ক দেখা যায়। এনিয়ে বনদপ্তরকে সরকারিভাবে নথি সংগ্রহ করা দরকার। যাতে সেই তথ্যমতো বনদপ্তর ব্যবস্থা নিতে পারে। 
অপর এক পশুপ্রমী সংগঠন এনডব্লুএ-র সদস্য অনুজিত্ বসু বলেন, চা বাগান এলাকায় সংঘাত এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় বনদপ্তর ক্যাম্পিং চালাচ্ছে। তাতে চা বাগান এলাকায় কাজে যাওয়ার কী কী সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে, সেটা শ্রমিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চা বাগান এলাকায় চিতাবাঘের সংখ্যা বেড়েছে বলে মেনে নিয়েছেন কার্শিয়াং ডিভিশনের ডিএফও দেবেশ পান্ডে। তিনি বলেন, ছোট বনাঞ্চলগুলিতে চিতাবাঘকে কিছু অসাধুরা উত্তক্ত্য করে। এজন্য চিতাবাঘ লোকালয় ও চা বাগান এলাকামুখী হচ্ছে। মাঝেমধ্যে গৃহপালিত পশুর উপর হামলা চালাচ্ছে চিতাবাঘ। সেক্ষেত্রে চিতাবাঘের আতঙ্কিত এলাকায় বনদপ্তর মাইকিং করে চলছে। একইসঙ্গে চা বাগান এলাকায় চিতাবাঘ দেখা গেলে আমরা ঘেরাবন্দি করে দিচ্ছি। এছাড়া একই এলাকায় চিতাবাঘ হানা দিলে সেখানে খাঁচা পাতা হচ্ছে। তিনি বলেন, গণনার বিষয়টি উপর মহল থেকে সিদ্ধান্ত নেয়। 
শিলিগুড়ি মহকুমাজুড়ে ৪২টি চা বাগান রয়েছে। কমবেশী সব বাগানে চিতাবাঘের আতঙ্ক জাঁকিয়ে বসে। এরমধ্যে জঙ্গল সংলগ্ন চা বাগান এলাকায় ওই আতঙ্ক চরমে উঠে। বিশেষ করে ডিভিশনের টুকরিয়াঝার, বাগডোগরা, পানিঘাটা, ঘোষপুকুর ও বামনপোখড়ি রেঞ্জ সংলগ্ন চা বাগানে চিতাবাঘ হানা দেয়। যদিও চলতি বছরে চিতাবাঘের হামলায় হতাহতের খবর নেই। একাধিক জায়গায় গোরু এবং খেয়েছে চিতাবাঘ।
সম্পর্কিত সংবাদ