নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ‘মহাকুম্ভে মাথা ডোবালেই সপরিবারে পুণ্যলাভ। এলাহি ব্যবস্থা করেছেন যোগী সরকার।’ গেরুয়া শিবিরের এই প্রচারকে মাথায় নিয়েই কুম্ভের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন জামুরিয়ার কেন্দার টোটো চালক বিনোদ রুইদাস। ঠিক এক মাস আগে ২৯ জানুয়ারি মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় বিনোদ রুইদাসের। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে অথই জলে ভেসে যায় রুইদাস পরিবার। যোগী সরকার ঘোষণা করেছিল, পরিবার পিছু পঁচিশ লক্ষ টাকা দেবে। বিজেপি নেতা বাড়ি বয়ে এসে জানিয়েছিলেন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তাঁর হয়ে বিষয়টি দরবার করছেন যোগী সরকারের সঙ্গে। স্বজন হারালেও আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে যাবে এই আশাতেই ছিল রুইদাস পরিবার। এক মাস অতিক্রান্ত। বিজেপি নেতাদের প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা এবার দূরে সরে যেতে শুরু করেছেন। তিন নাবালক সন্তানকে নিয়ে জলে পড়ে গিয়েছেন মৃতার স্ত্রী শর্মিলা রুইদাস।
Advertisement
তিনি বলেন, একমাস হয়ে গিয়েছে আত্মীয় পরিজনদের নিজের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত। আমরা পড়েছি বিরাট সমস্যায়। দুই মেয়ের একজন মাধ্যমিক দেবে, অন্যজন ক্লাস এইটে পড়ে। ছেলেটি ছোট, ও ক্লাস সিক্সে পড়ে। ওর বাবাই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। ক্ষতিপূরণের একটা টাকাও পাইনি। জানি না ভবিষ্যতে কীভাবে সংসার চালাব।
বিনোদবাবু ছোট শ্যালক বিষ্ণু রুইদাসকে নিয়েই মহাকুম্ভে গিয়েছিলেন। বিষ্ণু জানিয়েছিলেন, একদিন নিখোঁজ ছিলেন বিনোদবাবু। প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাইনি। এমনকী পদপিষ্টে মৃত্যু হলেও দেহের ময়নাতদন্তটুকুও করায়নি যোগী সরকার। কোনওরকম নথি ছাড়াই উত্তরপ্রদেশের এক পুলিস অফিসারকে দিয়ে দেহ বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সরকার। সরকার ও প্রশাসনের এমন অমানবিকতায় আমরা হতবাক! তখনই মনে হয়েছিল, এটা কি সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা? তাই প্রশ্ন জেগেছিল, আদৌ ক্ষতিপূরণ মিলবে তো?
পরিবারের কাছে ছুটে আসেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি। তিনি এসে জানান, যোগী সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণ তাঁরা পাবেন। বিষয়টি খোদ বিরোধী দলনেতা যোগী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দ্রুত ক্ষতিপূরণের টাকা হাতে আসবে। সেই প্রতিশ্রুতির পরও টাকা আসেনি। তাতেই বাড়ছে হতাশা ।
বিষ্ণু রুইদাস বলেন, সামনে দেখেছি পদপিষ্টের মর্মান্তিক পরিণতি। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই আমাদের মতো গরিব। বিজেপি নেতারা বাড়ি এসে ক্ষতিপূরণের কথা বললেও পরিবার কোনও ক্ষতিপূরণ পায়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি আর বিজেপি সরকার মানুষকে ভাঁওতা ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না। মহাকুম্ভে দুর্ঘটনায় কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার কোনও হিসাব নেই। যাঁদের মৃত্যু প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁদের পরিবারও ক্ষতিপূরণ পেল না। যতটা সম্ভব পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।
বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, বিনোদ রুইদাসের পরিবার যাতে ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়টি বিরোধী দলনেতা এখনও দেখছেন। খুব দ্রুত ক্ষতিপূরণের চেক তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিনোদবাবু ছোট শ্যালক বিষ্ণু রুইদাসকে নিয়েই মহাকুম্ভে গিয়েছিলেন। বিষ্ণু জানিয়েছিলেন, একদিন নিখোঁজ ছিলেন বিনোদবাবু। প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাইনি। এমনকী পদপিষ্টে মৃত্যু হলেও দেহের ময়নাতদন্তটুকুও করায়নি যোগী সরকার। কোনওরকম নথি ছাড়াই উত্তরপ্রদেশের এক পুলিস অফিসারকে দিয়ে দেহ বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সরকার। সরকার ও প্রশাসনের এমন অমানবিকতায় আমরা হতবাক! তখনই মনে হয়েছিল, এটা কি সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা? তাই প্রশ্ন জেগেছিল, আদৌ ক্ষতিপূরণ মিলবে তো?
পরিবারের কাছে ছুটে আসেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি। তিনি এসে জানান, যোগী সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণ তাঁরা পাবেন। বিষয়টি খোদ বিরোধী দলনেতা যোগী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দ্রুত ক্ষতিপূরণের টাকা হাতে আসবে। সেই প্রতিশ্রুতির পরও টাকা আসেনি। তাতেই বাড়ছে হতাশা ।
বিষ্ণু রুইদাস বলেন, সামনে দেখেছি পদপিষ্টের মর্মান্তিক পরিণতি। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই আমাদের মতো গরিব। বিজেপি নেতারা বাড়ি এসে ক্ষতিপূরণের কথা বললেও পরিবার কোনও ক্ষতিপূরণ পায়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি আর বিজেপি সরকার মানুষকে ভাঁওতা ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না। মহাকুম্ভে দুর্ঘটনায় কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার কোনও হিসাব নেই। যাঁদের মৃত্যু প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁদের পরিবারও ক্ষতিপূরণ পেল না। যতটা সম্ভব পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।
বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, বিনোদ রুইদাসের পরিবার যাতে ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়টি বিরোধী দলনেতা এখনও দেখছেন। খুব দ্রুত ক্ষতিপূরণের চেক তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।



