Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু শালবনীর বৃদ্ধা উপভোক্তার

মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু শালবনীর বৃদ্ধা উপভোক্তার
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
রাজদীপ গোস্বামী, শালবনী: মমতার আবাস যোজনার বাড়ি আর পাওয়া হল না। যোগীরাজ্যে কুম্ভমেলায় অমৃতস্নানে গিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে পদপিষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হল। মৃতার নাম ঊর্মিলা ভুঁইয়া(৭৫)। বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী ব্লকের কাছারিরোড সংলগ্ন ভুঁ‌ইয়াপাড়ায়। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। পরিবারের সদস্যদের কথায়, মৌনী অমাবস্যায় অমৃতস্নানের সময় আচমকা হুড়োহুড়ির জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুলিস-প্রশাসনের চূড়ান্ত গাফিলতির জেরেই ঊর্মিলাদেবীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। সেখানে যাওয়া ঊর্মিলাদেবীর পরিবারের বাকি সাতজন সদস্য বরাতজোরে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন জখম হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঊর্মিলাদেবীর বাড়িতে যান শালবনীর বিডিও রোমান মণ্ডল, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ প্রমুখ। এদিন ব্লক প্রশাসনের তরফে মৃত বৃদ্ধার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নেপালবাবু বলেন, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। পুলিস-প্রশাসনের ব্যর্থতার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের তরফে সবরকমভাবে সহযোগিতা করা হবে। 
Advertisement
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মহাকুম্ভে অমৃতস্নানের আশায় বুক বেঁধেছিলেন ওই বৃদ্ধা। পরিবারের বাকি সদস্যরা অমৃতস্নানে যাচ্ছেন শুনে তিনিও রাজি হয়ে যান। গত শনিবার তিনি ছোট মেয়ে অঞ্জনা মাইতির বাড়ি খড়্গপুরে যান। সোমবার খড়্গপুর থেকে বৃদ্ধার পরিবারের আটজন সদস্য ট্রেনে চেপে মহাকুম্ভের উদ্দেশে রওনা দেন। মঙ্গলবার তাঁরা প্রয়াগরাজে পৌঁছন। তাঁরা ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের আশ্রমে থাকার জন্য উঠেছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে সেখানেই দুপুরের আহার সারেন ওই বৃদ্ধা সহ পরিবারের বাকি সদস্যরা। সেইসময় বৃদ্ধা বাড়িতে ফোন করে কথাও বলেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁরা একত্রে অমৃতস্নানের উদেশে রওনা দেন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, তাঁরা সকলে একসঙ্গেই ছিলেন। আচমকা ব্যারিকেড ভেঙে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পরিবারের সকলে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েন। সেইসময় ধাক্কাধাক্কিতে ঊর্মিলাদেবী মাটিতে পড়ে যান। তারপর থেকে বহু খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের বাকি সদস্যরা আর খুঁজে পাননি। এরপর একটি অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বৃদ্ধার দেহের সন্ধান মেলে। সেখানেই পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে, ঊর্মিলাদেবীর মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বৃদ্ধার দেহ পাঠানো হয়েছে। একটি চিরকুটে তাঁর মেয়ের বাড়ি খড়্গপুরের ঠিকানা রয়েছে। দেহ মেদিনীপুর মেডিক্যালে ময়নাতদন্ত হবে। ঊর্মিলাদেবীর পুত্রবধূ অম্বিকা ভুঁইয়া বলেন, এভাবে শাশুড়ি মায়ের মৃত্যু হবে স্বপ্নেও ভাবিনি। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও শাশুড়ির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। ওঁর নামে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বাড়ি এসেছিল। জানি না এবার কী হবে। এভাবে মৃত্যু মন থেকে মেনে নিতে পারছি না। 
মৃতা ছেলে দুলাল ভুঁইয়া বলেন, প্রচণ্ড হুড়োহুড়ির জেরে মা সকলের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। মায়ের খোঁজ মিলছিল না। পরে খোঁজ মেলে। ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর আমাদের কাছে মৃত্যুর খবর আসে। মা আগে পুরী সহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিল। কিন্তু মহাকুম্ভ মেলায় যাওয়ার পরিণতি এমন হবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারছি না। মৃতার নাতনি মৌমিতা মাহাত ফোনে বলেন, আমার পায়ে চোট লেগেছে। কিন্তু সেখানকার পুলিসের কোনও সহযোগিতা পাইনি। এই অবস্থায় ফিরতে বাধ্য হচ্ছি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ