Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহকুমায় নাবালক, অপটু ও নেশাগ্রস্ত টোটো চালকদের জন্য বাড়ছে দুর্ঘটনা, আতঙ্কে যাত্রীরা

মহকুমায় নাবালক, অপটু ও নেশাগ্রস্ত টোটো চালকদের জন্য বাড়ছে দুর্ঘটনা, আতঙ্কে যাত্রীরা
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিগত কয়েক বছরে রামপুরহাট মহকুমার মুরারই, নলহাটি, রামপুরহাট, মাড়গ্রাম, ময়ূরেশ্বর সহ সর্বত্র হু হু করে বেড়েছে টোটোর সংখ্যা। বেকার যুবকরা রোজগারের আশায় টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন রাস্তায়। তাতে বহু মানুষের সুবিধা হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানজট। শহরজুড়ে বেড়েছে রুটহীন টোটোর সংখ্যা। অন্যদিকে হাল্কা গোঁফের রেখা, লিকলিকে হাত পা। সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এরকমই নাবালক টোটো চালকরা। প্রশ্ন উঠছে, তাই কি বাড়ছে এত দুর্ঘটনা? সাধারণ মানুষ অবশ্য বলছেন, নিত্যদিন প্রবীণ মানুষরা নাবালক, অপটু, নেশাগ্রস্ত টোটো চালকদের পাল্লায় পড়ে আহত হচ্ছেন। দু’-একটি নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। এতে যাত্রীদের আতঙ্ক বাড়ছে। স্বভাবতই অনিয়ন্ত্রিত টোটো চলাচল সাধারণ মানুষের পথ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদিও হেলদোল নেই পুলিস প্রশাসনের।
Advertisement
বহু টোটোর রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই, নেই সরকারি অনুমোদন। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের সুযোগও নেই। তাই প্রথম থেকেই অবৈধ যান হিসাবে চিহ্নিত টোটো। তারপরও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে চলেছে টোটোর সংখ্যা। যার ফলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় টোটো চালানো, অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া নিয়ে অসন্তোষ লেগেই আছে। মুরারইয়ের বাসিন্দা নইম খান বলেন, দিন দিন নাবালক টোটো চালকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কিছুদিন আগে এমনই এক টোটোর ধাক্কায় একজন মারাও যান। অনেকে জখম হয়েছেন, কারও পা ভেঙেছে। পুলিসকে জানালে বলা হচ্ছে, টোটো যানটাই অবৈধ। এমভিআই অ্যাক্টের মধ্যে পড়ছে না। অবৈধ যানের বিরুদ্ধে কী আর লিগ্যাল অ্যাকশন নেব? ক্ষতিপূরণের দাবি জানালে অভিভাবকরা বলছেন, গরিব মানুষ, টাকা পাব কোথায়? তাহলে নাবালকরা কেন টোটো চালাবে? প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। 
রামপুরহাটের বাসিন্দা পার্থপ্রতিম গুহ বলেন, টোটো এখন নাগরিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁডিয়েছে। বেকার, গরিব মানুষ জীবিকার স্বার্থে এই পেশা বেছে নিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু প্রতিদিন টোটোর ধাক্কায় প্রবীণ মানুষেরা জখম হচ্ছেন। কেউ কেউ মারাও যাচ্ছেন। আতঙ্কে বয়স্ক মানুষেরা পেনশন তুলতে বা বাজারে আসতে পারছেন না। মূল কারণ, কিছু নাবালক, অপটু ও নেশাগ্রস্ত চালক টোটো চালাচ্ছে। কিন্তু টোটো নিয়ন্ত্রণে পুলিস প্রশাসনের সদর্থক ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, সরকারি জায়গা থেকে দখলমুক্ত অভিযান শুরুর আগেই শহরে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলা টোটো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরসভার সঙ্গে বৈঠক করেন মহকুমা শাসক। ঠিক হয়, গ্রামের টোটোকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সেইসঙ্গে জোড়-বিজোড় নীতিতে টোটো চলাচল করতে হবে। টোটোর গায়ে বারকোড লাগানো থাকবে। চালকদের গলায় পরিচয় পত্র ঝোলানো আবশ্যিক। কিন্তু কয়েক মাস অতিক্রান্ত হলেও তার প্রতিফলন ঘটেনি। উল্টে নতুন টোটোর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।  
মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডে বলেন, রামপুরহাট পুরসভার তালিকা অনুযায়ী কিউবার কোড তৈরি করে তা মিউনিসিপালিটিকে দেওয়া হয়েছে। সেগুলি খুব শীঘ্রই প্রিন্ট আউট করে টোটোর মালিকদের হাতে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যাতে ওই কোড স্ক্যান করলে রেজিস্ট্রেশনে নাম থাকা ব্যক্তি টোটো চালাচ্ছে কি না জানা যাবে। আগামী দিনে মহকুমার অন্যান্য এলাকাতেও এই কোড চালু করা হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ