সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাড়িতে মজুত বোমা ফেটে গুরুতর জখম হল এক ব্যক্তি। তাকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে মাড়গ্রাম থানার বামদেবপুর গ্রামে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তার বাঁ হাতের কব্জির উপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দু’টি আঙুলও উড়ে গিয়েছে। পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় দিনমজুর বছর পঁয়তাল্লিশের জখম ব্যক্তির নাম রঙ্গলাল মাল। বাড়ি বামদেবপুর গ্রামের কোটালপাড়ায়। এদিন তার মাটির দোতলা বাড়িতে হঠাৎই বিস্ফোরণ হয়। বিকট শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রতিবেশীরা এসে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় দোতলার একটি ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন রঙ্গলাল। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাকে রামপুরহাট মেডিক্যালে ভর্তি করে। বোমা বিস্ফোরণে তার বাঁ হাতের দু’টি আঙুল উড়ে গিয়েছে। কব্জির উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় মাড়গ্রাম থানার পুলিস। পরে তার বাড়িতেও যায় পুলিস। তবে বাড়ির তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। রঙ্গলালের স্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় আমি মাঠে কাজ করছিলাম। কী করে বাড়িতে বোমা এল তা স্বামীই বলতে পারবে। কটা বোমা ছিল তাও জানি না। হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রঙ্গলাল বলে, আলু রাখার জন্য কোঠার উপরে থাকা ঘুঁটে সরাচ্ছিলাম। তখন বোমাটি ফেটে যায়। কিন্তু ওখানে বোমা এল কীভাবে? উত্তরে সে বলে, আগে সিপিএম পার্টি করতাম। তখন তৃণমূলের সঙ্গে মারপিট হয়েছিল। সেইসময় কিছু বোমা রেখেছিলাম। পরে ফেলে দিয়েছিলাম। এই বোমাটি কোথায় রেখেছিলাম মনেই ছিল না। যদিও সে এখন কোন দলের সঙ্গে যুক্ত নয় বলে দাবি করেছে তার স্ত্রী। প্রতিবেশী তরুণ মাল বলেন, রঙ্গলাল বর্তমানে কোনও দল করে না। খেটে খায়। কোথা থেকে বোমা এনে কোঠার উপরে রেখেছিল সেই জানে। স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার দেওর অপু মাল বলেন, ২০১২ সাল থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত গ্রামে রাজনৈতিক গণ্ডগোল হয়েছে। তখন রঙ্গলাল সিপিএম পার্টি করত। তখনই বোমা মজুত করেছিল বলে জানলাম। তবে এখন যে দল খেতে দেয় সেই দলে যায়। পুলিসের প্রাথমিক জেরায় রঙ্গলাল জানিয়েছে, ২০১৮ সালে সে একটি বোমা কুড়িয়ে পায়। সেটাই ঘুঁটের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল। যদিও পুলিস জানিয়েছে, ওই বাড়িতে আরও বোমা মজুত রয়েছে কীনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



