Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেঘনাদ সহ পদ্মের ৩১ নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর

মেঘনাদ সহ পদ্মের ৩১ নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মী বিষ্ণুপদ মণ্ডল খুনের ঘটনায় বিপাকে বিজেপি নেতৃত্ব। ওই ঘটনায় বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল, দলের তিন মণ্ডল সভাপতি, পঞ্চায়েত সমিতির চারজন কর্মাধ্যক্ষ সহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে এফআ‌ইআর করা হয়েছে। খুনের ঘটনার তদন্তকারী অফিসার করা হয়েছে হলদিয়ার মহকুমা পুলিস অফিসারকে। এপর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের অধিকাংশ গাঢাকা দিয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আজ, বুধবার নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের আয়োজনে প্রতিবাদ সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে দলের নেতা কুণাল ঘোষ, দেবাংশু ভট্টাচার্য, দোলা সেন সহ আরও বেশ কয়েকজন আসছেন।
Advertisement
মঙ্গলবার তিনদিনের জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীঘায় এসেছেন। তার প্রাক্কালে নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় অস্বস্তিতে জেলা পুলিস। রবিবার রাতে সাতখণ্ড জালপাই গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতি গুরুপদ মণ্ডল ও তাঁর ভাই বিষ্ণুপদ মণ্ডলের উপর হামলা চালানো হয়। ওই রাতে নন্দীগ্রাম থানার পুলিস গুরুপদবাবুর স্ত্রী সন্ধ্যারানি মণ্ডলের কাছ থেকে গোটা ঘটনার বিবরণ এফআইআরে লেখেন। চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। হাসপাতালে বিষ্ণুপদবাবু মারা যাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আর একটি এফআইআর করার সিদ্ধান্ত হয়। শুধু তাই নয়, তাড়াহুড়ো করে গুরুপদবাবুর স্ত্রীর কাছ থেকে এফআইআর করানো নিয়েও শাসক দলের তোপের মুখে পড়ে নন্দীগ্রাম থানার পুলিস। 
৯ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় নিহত বিষ্ণুপদবাবুর স্ত্রী সুস্মিতাদেবী মোট ৩১জন বিজেপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় এফআইআর করেন। তাতে অভিযুক্ত হিসেবে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল, তিন মণ্ডল কমিটির সভাপতি ধনঞ্জয় ঘড়া, শ্যামাপ্রসাদ মাইতি, গৌতম দাসের নাম রয়েছে। এছাড়াও নন্দীগ্রাম-১পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপির চার কর্মাধ্যক্ষ সাহেব দাস, স্বদেশ দাসঅধিকারী, অশেষ পাল এবং ভিক্টর মণ্ডলের নাম রয়েছে। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ৩১জন বিজেপি নেতা-কর্মী খুনের ঘটনায় জড়িত বলে নিহতের স্ত্রী এফআইআর করেছেন।
আজ, বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সাত-আটজন রাজ্য নেতা নন্দীগ্রামে প্রতিবাদ সভায় শামিল হচ্ছেন। নন্দীগ্রাম থানার কোনও অফিসারকে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসারকে খুনের ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী তথা বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বলেন, তৃণমূল ঘরোয়া বিবাদে খুনোখুনির ঘটনায় রাজনৈতিক রং লাগিয়ে দেয়। নন্দীগ্রামে সাংগঠনিক দিক থেকে বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে মিথ্যা কেস দিচ্ছে। একসঙ্গে গোটা ব্লকের সব নেতাকেই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। আমরা এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়ব।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একসময়ের হার্মাদরাই এখন নন্দীগ্রামে বিজেপির সম্পদ। তারাই আমাদের পার্টি কর্মীকে খুন করেছে। বুথ সভাপতির হাত কেটেছে। আমরা এই ঘটনার শেষ দেখতে চাই। দোষীদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করতে হবে। সেই দাবিতে বুধবার নন্দীগ্রামে নিহত কর্মীর বাড়ির সামনে প্রতিবাদ সভা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ