সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: পয়লা মাঘেই ঝাড়গ্রাম সহ গোটা জঙ্গলমহল এলাকায় পালিত হয় নববর্ষ বা ‘আইখ্যান যাত্রা’। সেই সঙ্গে গ্রামে গ্রামে পালিত হয় গরাম পুজো। কৃষি সভ্যতার হাত ধরে উঠে আসা এটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। আদি জনজাতি কুড়মি ও তাঁদের ‘হিতমিতান› বা সহযোগী জাতিসত্তা এই সংস্কৃতির ধারক।
Advertisement
লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে আই অর্থে আসন্ন বা আসছে। খ্যান অর্থে নির্ঘণ্ট বা সময়। আইখ্যান হল আসন্ন শুভ সময়। জঙ্গলমহল এলাকার এই আদি জনজাতিরা বাঙালির পয়লা বৈশাখের মতোই নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে পয়লা মাঘ নববর্ষ হিসাবে বরণ করে থাকেন। সমস্ত শুভ কাজ তাঁরা এই দিন থেকে শুরু করেন। কৃষিকাজের সূচনা হিসেবে নতুন বস্ত্র পরে জমিতে আড়াই পাক লাঙ্গল দেওয়া হয়। এই সমাজব্যবস্থায় বছরে চারবার গ্রাম রক্ষা দেবদেবী হিসেবে গরাম পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পয়লা মাঘ বছরের প্রথম গরাম পুজো শুরু হয়। এরপর গাছে নতুন পাতা ফুল এলে শাল ফুল, আম ফল প্রকৃতিকে উৎসর্গ করে দ্বিতীয় বার গরাম পুজো অনুষ্ঠিত হয়। বর্ষাকালে কৃষিকাজ শুরুর আগে ও জমিতে ধান কাটার সূচনার সময় আরও দু’বার গরাম পুজো অনুষ্ঠিত হয়।
এই নিয়ে সাঁকরাইল এলাকার কুড়মালি সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ভূপেন মাহাত বলেন, ভূগোলে পৃথিবীর বার্ষিক গতিতে তার মূল চারটি মূল অবস্থান রয়েছে। সেগুলি হল ২২ ডিসেম্বর, ২১ মার্চ, ২১ জুন ও ২৩ সেপ্টেম্বর। হাজার হাজার বছরের প্রাচীন এই গরাম পুজোর এই চারটি সময় কালের সঙ্গে মিল রয়েছে। গরাম হল বিভিন্ন অশুভ শক্তির হাত থেকে গ্রামকে রক্ষা করার দৈবশক্তি।
এই নিয়ে অপর বিশেষজ্ঞ পুরুলিয়ার কিরীটি মাহাত বলেন, আখা শব্দটির অর্থ হলো আগুন। আখান শব্দটি প্রকৃত অর্থ সূর্যকে বোঝায়। আমাদের কুড়মালি কৃষি সভ্যতা দুই থেকে আড়াই হাজার বছর আগে ঋতু বৈচিত্র্যের অসাধারণ জ্যোতির্বিজ্ঞান আবিষ্কার করেন। সূর্য যেদিন উত্তরায়ণ যাত্রা শুরু করল। সেটাই আখান বা আখ্যান যাত্রা। জল, বায়ু, অগ্নি, মাটি এই দেবতার পুজো হল গরাম। ৬ মাসে বর্ষ গণনা বিক্রমাদিত্যের সময় কাল অর্থাৎ ২ হাজার বছর আগে ভারতে চালু ছিল। আমাদের এই সংস্কৃতি তাই হাজার হাজার বছরের পুরনো।
এই নিয়ে সাঁকরাইল এলাকার কুড়মালি সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ভূপেন মাহাত বলেন, ভূগোলে পৃথিবীর বার্ষিক গতিতে তার মূল চারটি মূল অবস্থান রয়েছে। সেগুলি হল ২২ ডিসেম্বর, ২১ মার্চ, ২১ জুন ও ২৩ সেপ্টেম্বর। হাজার হাজার বছরের প্রাচীন এই গরাম পুজোর এই চারটি সময় কালের সঙ্গে মিল রয়েছে। গরাম হল বিভিন্ন অশুভ শক্তির হাত থেকে গ্রামকে রক্ষা করার দৈবশক্তি।
এই নিয়ে অপর বিশেষজ্ঞ পুরুলিয়ার কিরীটি মাহাত বলেন, আখা শব্দটির অর্থ হলো আগুন। আখান শব্দটি প্রকৃত অর্থ সূর্যকে বোঝায়। আমাদের কুড়মালি কৃষি সভ্যতা দুই থেকে আড়াই হাজার বছর আগে ঋতু বৈচিত্র্যের অসাধারণ জ্যোতির্বিজ্ঞান আবিষ্কার করেন। সূর্য যেদিন উত্তরায়ণ যাত্রা শুরু করল। সেটাই আখান বা আখ্যান যাত্রা। জল, বায়ু, অগ্নি, মাটি এই দেবতার পুজো হল গরাম। ৬ মাসে বর্ষ গণনা বিক্রমাদিত্যের সময় কাল অর্থাৎ ২ হাজার বছর আগে ভারতে চালু ছিল। আমাদের এই সংস্কৃতি তাই হাজার হাজার বছরের পুরনো।



