আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
একটা গোটা দ্বীপ শুধুই পুতুল আর পুতুল দিয়ে ভরা! তবে কোনো পুতুলই গোটা অবস্থায় নেই। কারও হাত ভাঙা, কারও পা নেই, কেউবা চোখ খুইয়েছে। এমন সব পুতুলের দেখা মেলে মেক্সিকোর একটি দ্বীপে। এত পুতুল বলে দ্বীপের নামই হয়ে গিয়েছে আইল্যান্ড অব ডলস। এই দ্বীপটি দেখার জন্য পর্যটকরা রীতিমতো ভিড় জমান। এইসব পুতুলগুলো যে গোটা দ্বীপময় ছড়িয়ে রয়েছে তা নয়। আবার তা যে কোনো দ্বীপের একটা জায়গায় সাজানো রয়েছে তাও নয়। তাহলে পুতুলগুলো কোথায় রাখা? দ্বীপের বিভিন্ন এলাকার গাছের ডাল থেকে, বাড়ি ছাদ থেকে ঝুলতে দেখা যায় এই পুতুলগুলোকে। কোনোটা কাপড়ের তৈরি, কোনোটা স্পঞ্জের, কোনোটা বা প্লাস্টিকের পুতুল।
ছোট্ট বন্ধুরা, এতক্ষণে তোমরা হয়তো জানতে উদ্গ্রীব এই পুতুল ভরতি দ্বীপটা তৈরি হল কী করে? তাহলে ইতিহাসটা গোড়া থেকে বলা যাক। বছর পঞ্চাশ আগের কথা। মেক্সিকোর এই পুতুলের দ্বীপে বাস করতেন ডন জুলিয়ান সান্টানা বারেরা। একদিন তিনি দেখলেন দ্বীপের একটি খালের জলে ভেসে আসছে একটা পুতুল। কোনো বাচ্চা সেই পুতুল হারিয়ে ফেলেছে ভেবে বারেরা পুতুলটি তুলে খালের ধারেই একটা গাছে ঝুলিয়ে দেন। পরে তিনি জেনেছিলেন পুতুলটির মালিক, একটা ছোটো মেয়ে খালের জলে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। তার হাত থেকে পুতুলটি ওই জলে ভেসে যায়। বারেরা পুরো খবর শুনে এত দুঃখ পান যে, তারপর থেকেই তিনি পুতুল সংগ্রহ করতে থাকেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে ফেলে দেওয়া বা নষ্ট হওয়া পুতুল তিনি কুড়িয়ে এনে দ্বীপের নানা জায়গায়, গাছের ডালে, বাড়ির ছাদে ঝুলিয়ে রাখতে শুরু করেন। তিনি মনে করতেন এইভাবেই ওই ছোটো মেয়েটার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছেন দ্বীপবাসীদের মনে। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরেই এই ঘটনা ঘটতে থাকে এবং ক্রমশ দ্বীপটি বিভিন্ন ধরনের পুতুলে ভরে যায়। ভাগ্যের কী অদ্ভুত পরিহাস, বারেরার মৃত্যুও ঘটেছিল একটা দুর্ঘটনায়। ওই খালের জলেই তিনি ভেসে গিয়েছিলেন। ২০২২ সালে এই দ্বীপটির নাম পুতুলের দ্বীপ হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ তোলা হয়।