নয়াদিল্লি: একঝাঁক ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে মেক্সিকো। এই ইস্যুতে এবার পালটা সুর চড়াল ভারত। নয়াদিল্লির হুঁশিয়ারি, নিজেদের স্বার্থরক্ষায় ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। শনিবার সরকারি সূত্রে একথা জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লি: একঝাঁক ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে মেক্সিকো। এই ইস্যুতে এবার পালটা সুর চড়াল ভারত। নয়াদিল্লির হুঁশিয়ারি, নিজেদের স্বার্থরক্ষায় ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। শনিবার সরকারি সূত্রে একথা জানানো হয়েছে।
মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুষ্ট করতেই বাণিজ্য চুক্তি না থাকা দেশগুলির পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে মেক্সিকো। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নয়া হারে শুল্ক চালু হওয়ার কথা। এর ফলে ভারত সহ এশিয়ার বহু দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভারতের একঝাঁক পণ্যের রপ্তানি বিপাকে পড়ার আশঙ্কা। এবিষয়ে এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের এক আধিকারিক বলেন, গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা বজায় থাকবে। তবে ভারতীয় রপ্তানিকারীদের স্বার্থরক্ষায় উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার আমাদেরও রয়েছে। ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, শুল্ক বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিল পেশের সময়ই ভারত মেক্সিকোর সঙ্গে এবিষয়ে যোগাযোগ করেছিল। বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ম মেনে পারস্পরিক স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে, এমন সমাধানসূত্রের খোঁজে মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রকের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়েছিল ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়ালের সঙ্গে মেক্সিকোর সহকারী অর্থমন্ত্রী সুইস রোসেন্দোর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও হয়েছিল। এবিষয়ে ফের বৈঠক হবে বলেই প্রত্যাশা। তবে আলোচনার দরজা খোলা রেখেই সুর চড়িয়েছে ভারত। কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, আগাম কোনও আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে এমএফএন (মোস্ট ফেভারড নেশন) ট্যারিফ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আমাদের সহযোগিতামূলক আর্থিক সম্পর্কের নীতির সঙ্গে খাপ খায় না। এধরনের পদক্ষেপ বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার স্বচ্ছতার সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ নয়।
মেক্সিকোর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে ভারত ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হবে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলি। গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ, পোশাক, প্লাস্টিক, ইস্পাত, খেলনা, ঘরোয়া সরঞ্জাম, আসবাব, জুতো, চামড়ার পণ্য, কাগজ, কার্ডবোর্ড, মোটর সাইকেল, অ্যালুমিনিয়াম, কাচ ও সুগন্ধী সহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি ধাক্কা খেতে পারে। এই অবস্থায় ভারত ও মেক্সিকোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে খবর। বিশেষজ্ঞদের দাবি, সেই চুক্তি কার্যকর হলে রপ্তানিতে ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হবে।