Bartaman Logo
৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের পথের কাঁটা মেক্সিকান সমর্থক ও উচ্চতা

ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুচেল মেক্সিকান সমর্থকদের চাপের মুখে। অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের উচ্চতা নিয়ে উদ্বেগ। বিস্তারিত পড়ুন।

শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের পথের কাঁটা মেক্সিকান সমর্থক ও উচ্চতা
  • ৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মেক্সিকো সিটি: কোলাহল পেরিয়ে শহর তখন সন্ধ্যার চাদরে ঢাকা। ইংল্যান্ডের টিম বাস হোটেলের সামনে দাঁড়াতেই বেজে উঠল ভুভুজেলা, হর্ন। তারপর রাস্তার দু’ধারে জড়ো হওয়া মেক্সিকান সমর্থকদের চিৎকার। কেউ বাসের জানালার দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপ করছেন, তো কেউ বাঁশি বাজাচ্ছেন। বিষয়টি দেখে অবাক টমাস টুচেল। ইংল্যান্ডের কোচ জানেন, এই মেক্সিকান সমর্থকরা ইকুয়েডর টিম হোটেলের বাইরে কীভাবে তাণ্ডব চালিয়েছে। তাই তিনি হোটেল গোপন রাখার কথা বলেছিলেন। কিন্তু ফাঁস হয়ে গিয়েছে। আর বাস থেকে কোচ নামতেই এক সমর্থকের চিত্কার, ‘ইউ নেভার ওয়াক অ্যালোন।’ হয়তো বোঝাতে চাইলেন, ‘তোমাদের পিছু ছাড়ছি না।’ বিড়ম্বনা সেখানেই শেষ হয়নি। এরপর রাতেও সমর্থকরা হোটেল সামনে এসে উৎপাত চালায়। কড়া সিকিউরিটি দিয়েও লাভ হয়নি। আসলে সোমবার ভোরে (ভারতীয় সময়) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অ্যাজটেকায় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড। মেগা লড়াইয়ের আগে বিপক্ষ দলের ফুটবলারদের চাপে রাখাই লক্ষ্য হোম সমর্থকদের।

Advertisement

টমাস টুচেলও ধুরন্ধর কোচ! তাই সমাধান সঙ্গে নিয়েই এসেছেন তিনি। ঘুমের ব্যাঘাত যাতে না ঘটে, তাই স্টাফ ও ফুটবলারদের বিশেষ ইয়ারপ্লাগ এবং ‘হোয়াইট নয়েজ মেশিন’ দেওয়া হয়েছে। যাতে বাইরের আওয়াজ হোটেলরুমে না প্রবেশ করে। তবে দুচিন্তা আরও আছে। অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত। ইংল্যান্ডের প্লেয়ারদের পক্ষে এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। এত উঁচুতে বাতাসের ঘনত্ব কম থাকে। ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে খবর, এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের বলবর্ধক ওষুধ দেওয়া হতে পারে। যা ফুসফুসের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এটা বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থার নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকাতেও নেই। যদিও টুচেল সরকারিভাবে এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি। সবমিলিয়ে শেষ ষোলের লড়াইয়ে শুধু মেক্সিকো নয়, সেখানকার কঠিন পরিবেশ ও সমর্থকদের বিরুদ্ধেও লড়তে হচ্ছে টুচেল-ব্রিগেডকে। 
মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য কাগজ-কলমে এগিয়ে ইংল্যান্ড। পরিসংখ্যান থ্রি লায়নদের পক্ষেই। এখনও পর্যন্ত মোট ৯বারের সাক্ষাতে ৬বার জিতেছে ইংলিশ-ব্রিগেড। চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট টুচেলের দল। সৌজন্যে হ্যারি কেনের দুরন্ত ফর্ম। রাউন্ড অব ৩২’তে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় ইংলিশ-ব্রিগেড। জোড়া গোল হ্যারি কেনের। চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত পাঁচবার বিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছেন তিনি। উল্লেখ করতে হবে মাঝমাঠের নিউক্লিয়াস বেলিংহ্যামের কথাও। তাঁকে ডানা মিলতে দিলে দুঃখ রয়েছে মেক্সিকোর কপালে। তবে ঘরের মাঠে ছেড়ে কথা বলবে না হাভিয়ের আগুইরের দলও। আক্রমণে রাউল গিমেনেজ ও হুলিয়ান কিনিয়নেসের জুটি বিপক্ষ রক্ষণের কাছে রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ। এছাড়া গিলবার্তো মোরা ও আলভার্দোরাও ছন্দে আছেন। সবচেয়ে ভয়ের, মেক্সিকোর নাছোড় মনোভাব। সবমিলিয়ে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ