Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সীমান্তে উদ্ধার দুষ্প্রাপ্য মেক্সিকান ড্রাগ, উদ্বেগ

এবার মুর্শিদাবাদ সীমান্তে উদ্ধার হল মেক্সিকান ড্রাগ ‘মেসকালাইন’। ক্যাকটাস গাছের সবুজ বীজ থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি হয় এই ড্রাগ।

সীমান্তে উদ্ধার দুষ্প্রাপ্য মেক্সিকান ড্রাগ, উদ্বেগ
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, লালগোলা: এবার মুর্শিদাবাদ সীমান্তে উদ্ধার হল মেক্সিকান ড্রাগ ‘মেসকালাইন’। ক্যাকটাস গাছের সবুজ বীজ থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি হয় এই ড্রাগ। দিল্লি, মুম্বই প্রভৃতি শহরের নৈশ ক্লাব ও পার্টিতে দুষ্প্রাপ্য এই ড্রাগের চাহিদা ব্যাপক। জোগান কম থাকায় বিপুল দামে বিক্রি হয় মেসকালাইন। লালগোলার আটরশিয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারিরা এই মাদক ভারতে ঢোকাতে মরিয়া। বুধবার বাংলাদেশের খোলা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে ৪৮১ গ্রাম মেসকালাইন ড্রাগ উদ্ধার হয়েছে। তবে কে বা কারা সেটা পাচারের চেষ্টা করছিল, তা জানতে পারেনি বিএসএফ। উদ্ধার হওয়া মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলেই মনে করছে গোয়েন্দারা। 

Advertisement

বুধবার রাতের অন্ধকারে মাদক কারবারিরা সীমান্ত দিয়ে এই মাদক ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা করছিল। বাংলাদেশ থেকে একটি কালো পলিথিনে ভরে এই মাদক ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল এপারে। বিএসএফের তৎপরতায় এপারের মাদক কারবারিরা ওই প্যাকেট উদ্ধার করতে পারেনি। সকালে টহলদারির সময়ে বিএসএফ আধিকারিকরা ওই মাদকের প্যাকেট উদ্ধার করে। মোট পাঁচটি প্যাকেটে সিল করা সাদা রঙের গুঁড়ো পাউডার উদ্ধার হয়। পরে গোয়েন্দারা জানতে পারে ওই ড্রাগ হেরোইন বা ব্রাউন সুগার নয়, তা আসলে মূল্যবান মেসকালাইন। 
মাস ছয়েক আগে এদেশে প্রথম এই মাদক ব্যবহারের খবর পায় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। দিল্লির একটি নৈশ পার্টিতে এই মাদক আনা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, নাইজেরিয়ার লাগোস থেকে ফেইথ রাচেল নামে এক আন্তর্জাতিক মাদক কারবারির থেকে প্রথমবার ৩ কেজি ৮০০ গ্রামের মেসকালাইন উদ্ধার হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে যার দাম প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকা। তদন্তে নেমে জানা যায়, মেক্সিকোর পিয়োট প্রজাতির ক্যাকটাসের বোতাম আকৃতির বীজ থেকে তৈরি হয় এই মাদক। 
মেসকালাইন একটি সাইকোঅ্যাক্টিভ ড্রাগ। বিংশ শতকের গোড়ার দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোতে এর জনপ্রিয়তা ছিল। তবে সীমিত সরবরাহ এবং অন্যান্য মাদক দ্রব্যের বাজারে থাকায় এর জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। হঠাৎ করে লালগোলার প্রত্যন্ত এলাকায় এই মাদকের প্যাকেট উদ্ধার হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে গোয়েন্দাদের। 
এক গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, মেক্সিকোর কিছু আদিবাসী তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এই মাদক সেবন করত। পিয়োট ক্যাকটাসের বোতামগুলি প্রায়শই চিবনো হয়। তারপর জলের সঙ্গে মিশিয়ে গিলে ফেলা হতো। কখনও কখনও এই বীজ থেকে পাউডার তৈরি করে ক্যাপসুলে ঢুকিয়ে খাওয়া হয়। লালগোলা থেকে উদ্ধার হওয়া মাদক ছিল সাদা গুঁড়ো। সেগুলি পাচারের পর ক্যাপসুলে ভরে সেবন করা হতো বলেই মনে করা হচ্ছে। আটরশিয়া গ্রামের মাদক ক্যারিয়াররা এই মাদক ঢোকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কোন রুট দিয়ে এই মাদক ঢুকছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ