নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মিটারে কারচুপি হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে এবার বাঁকুড়ার পেট্রল পাম্পগুলিতে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে জেলা লিগ্যাল মেট্রোলজি বা আইনি পরিমাপ সংক্রান্ত দপ্তর। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকরা জেলার বিভিন্ন শহর ও ব্লক এলাকায় থাকা পেট্রল পাম্পে যে কোনওদিন হাজির হয়ে পরিমাপ ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখবেন। কোনও গরমিল ধরা পড়লেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন।
সম্প্রতি কম তেল দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাঁকুড়া শহরের কাটজুড়িডাঙা এলাকার একটি পেট্রল পাম্পে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধে। স্থানীয়দের বিক্ষোভে এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিসকে হিমশিম খেতে হয়। তারফলেই দপ্তর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও কাটজুড়িডাঙা এলাকার ওই পেট্রল পাম্পে তদন্ত চালিয়ে মিটারে কোনও গরমিল খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
এব্যাপারে লিগ্যাল মেট্রোলজি দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট কন্ট্রোলার অনুরাগ দাস বলেন, সংবাদ মাধ্যমে আমরা কাটজুড়িডাঙা এলাকার ওই পেট্রল পাম্পের ঘটনা জেনে স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত চালানোর উদ্যোগ নিই। তারমধ্যেই এক যুবক এসে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। ফলে দপ্তরের তরফে বাঁকুড়া দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক রাজন সাহাকে তদন্তে পাঠানো হয়। বিতর্কিত মেশিনের পরিমাপ পদ্ধতি তিনি পরীক্ষা করে দেখেন। তাতে তেমন গরমিল পাওয়া যায়নি। তবে আমরা জেলাজুড়ে পেট্রল পাম্পগুলির পরিমাপ পদ্ধতি যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিদর্শকরা নিজ নিজ এলাকার পেট্রল পাম্পে কাউকে কিছু না জানিয়েই হাজির হবেন। তাঁরা যে কোনও মেশিন পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। গরমিল ধরা পড়লেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাঁকুড়া শহরের এক পেট্রল পাম্প মালিক বলেন, আমরা কমিশনের ভিত্তিতে একটি রাস্টায়ত্ত সংস্থার সরবরাহ করা তেল বিক্রি করি। ফলে তেল সংস্থার তরফেও নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। গ্রাহকদের মধ্যে অনেকেই মেশিন নিয়ে সন্দেহ করে থাকেন। সেকারণে একশোর গুনিতকে কোনও মূল্যের তেল তাঁরা কিনতে চান না। তাঁরা ১১০ বা ৯০ টাকার তেল বাইকের ট্যাঙ্কে ভরেন। কেউ কেউ আবার এক লিটারের গুনিতকের পরিমাপে তেল কেনেন না। তাঁরাও সর্বদা সামান্য কম বা বেশি পরিমাণে তেল কিনে থাকেন। টাকা বা পরিমাপের পূর্ণ সংখ্যায় মেশিনে গরমিল করা থাকে বলে তাঁদের আশঙ্কা থাকে। তবে ওই ধরনের কোনও বিশ্বাস বা আশঙ্কা ঠিক নয়। যে কোনও দিন লিগ্যাল মেট্রোলজির আধিকারিকরা মেশিন পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া জেলায় প্রায় ১০০টি পেট্রল পাম্প রয়েছে। তিনটি বড় রাস্টায়ত্ত সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থারও কিছু পাম্প রয়েছে। পাম্পে ডিজেল ও পেট্রল ভরার আলাদা মেশিন থাকে। বর্তমানে সব মেশিন কর্মীরা খুলতে পারেন না। তেল সংস্থার তরফে ‘ওটিপি’ নির্ভর ‘ওপেন সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। জালিয়াতি রুখতেই ওই উদ্যোগ বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।