নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় প্রতিদিন যাত্রী দুর্ভোগ চলছে মেট্রোতে। কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর রুটে মেট্রো বিভ্রাট লেগেই রয়েছে। কখনও ট্র্যাকে জল, কখনও রেক বিকল, কখনও আবার বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে পরিষেবা। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে দেশের প্রথম মেট্রো-পথে সফর যাত্রীদের কাছে ক্রমেই আতঙ্কের হয়ে উঠছে। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হল মেট্রোরেলের কর্মীদের ক্ষোভ-অসন্তোষ। এর ফলে পরিষেবায়ও ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে দাবি কর্মীদের একাংশের।
ঘটনা হল, গত বছর ২৪ জুন এই নর্থ-সাউথ করিডরে রাত্রিকালীন বিশেষ মেট্রো পরিষেবা চালু হয়। সোম থেকে শুক্রবার কবি সুভাষ ও দমদম মেট্রো স্টেশন থেকে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে একটি মেট্রো ছাড়ে। রাত্রিকালীন এই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য কর্মীদের বাড়তি ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ওভার টাইম (ওটি) বাবদ টাকা পেতেন। সেই সঙ্গে মিলত ‘কমপেনসেটরি লিভ’। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে কর্মীদের এই পাওনা বন্ধ করে দিয়েছে রেল। ফলে রাত ১২টা পর্যন্ত ডিউটিতে থেকেও মিলছে না ওটি কিংবা ছুটি। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মীরা।
তৃণমূল প্রভাবিত মেট্রো রেলওয়ে প্রগতিশীল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শুভাশিস সেনগুপ্ত বলেন, ‘হকের দাবি থেকে কর্মীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। মেট্রো ভবনের কিছু কর্তা কয়েমি স্বার্থে স্বেচ্ছাচারিতার চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন। শ্রমিক-কর্মচারীদের উপর নির্মম অত্যাচার চলছে। আমরা তাঁদের পাশে আছি। ঐক্যবদ্ধভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও আন্দোলন করব আমরা।’ জানা গিয়েছে, মেট্রো রেলের ট্রাফিক বিভাগের কর্মীরা মূলত রেক পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। তাঁদের জন্য মূলত দুই শিফটে ডিউটি দেওয়া হয়। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো এবং দুপুর ২টো থেকে রাত ১০টা। কিন্তু ‘ওভার টাইম’ তুলে দেওয়ার পর আচমকাই বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন ডিউটি রোস্টার চালু করা হয়েছে। অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে রাত ১২টার পর কর্মীদের বাড়ি ফিরতে গিয়ে নাকাল হতে হচ্ছে। এত রাতে বাড়ি ফিরতে গিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন মেট্রোর মহিলা কর্মীরাও। মূলত কলকাতা হাইকোর্টের চাপেই এই ‘নাইট সার্ভিস’ মেট্রো চালু করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। সেই পরিষেবা দিতে গিয়ে এবার কর্মীদের তোপের মুখে পড়ল রেল।