


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুলিশ ও মেট্রো রেলের সাতমাসের টানাপোড়েন শেষ। চিংড়িঘাটা নিয়ে অবশেষে জট কাটল! উৎসব মিটলেই রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড বা আরভিএনএল’কে কাজের ছাড়পত্র দেবে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। সেক্ষেত্রে ছটপুজোর পর অর্থাৎ নভেম্বর মাসের গোড়ায় নিউ গাড়িয়া-বিমানবন্দর রুট অরেঞ্জ লাইন চিংড়িঘাটাতে আটকে থাকা ৩৬৬ মিটারের কাজ শুরু হবে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার দুপুরে পার্ক স্ট্রিটের মেট্রো ভবনে প্রায় তিন ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে এক বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, নতুন করে কোনও জটিলতা তৈরি না হলে, নভেম্বর মাসের গোড়ায় পরপর দুই সপ্তাহের ‘উইকএন্ডে’ অর্থাৎ শুক্র, শনি ও রবিবার রাতে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হবে মেট্রোকে। উল্লেখ্য, হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালে, মেট্রো জানিয়েছিল ‘উইকএন্ডে’ তিনদিন করে পরপর দু’সপ্তাহ ট্রাফিক ‘ব্লক’ পেলেই তারা অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারবে।
আরভিএনএল’কে নভেম্বর মাসের গোড়ায় কাজ শুরুর ছাড়পত্র দেওয়া হলেও, মহালয়ার আগেই ট্রায়াল রান শুরু করতে চলেছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্টে পরবর্তী শুনানির আগেই ভেড়ির উপর দিয়ে নির্মিত বাইপাসের সমান্তরাল সার্ভিস রোডে যানবাহন চালিয়ে পরিস্থিতি হাতেকলমে দেখে নিতে চাইছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ।
সূত্রের খবর, আজকের বৈঠকে ফের চিংড়িঘাটাতে ত্রিমুখী সাবওয়ে তৈরির দাবি তোলে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। কারণ, গৌরকিশোর ঘোষ স্টেশন চালু হলে, পথচারীদের চাপে থমকে যাবে চিংড়িঘাটার যান চলাচল। বৈঠকে মেট্রো আশ্বাস দিয়েছে, চিংড়িঘাটাতে ত্রিমুখী সাবওয়ে চালু না হওয়া পর্যন্ত তারা গৌরকিশোর ঘোষ স্টেশনকে ‘গ্যালপিং’ হিসেবে ব্যবহার করবে। সেক্ষেত্রে বেলেঘাটা স্টেশনের পরবর্তী এই স্টেশনে মেট্রো থামবে না।
উল্লেখ্য, চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কলকাতা পুলিশ ছাড়পত্র না দেওয়ায় অরেঞ্জ লাইনে নিউ গাড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রোর চিংড়িঘাটাতে মাত্র ৩৬৬ মিটারের কাজ আটকে ছিল। এনিয়ে কলকাতা পুলিশ–মেট্রো রেলের সাতমাসের দীর্ঘ টানাপোড়েন চলে। মেট্রোর অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের দাবি মেনে বিকল্প রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হলেও কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ কাজের অনুমতি দিচ্ছে না। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের পাল্টা দাবি, চিংড়িঘাটা সাবওয়ে তৈরি না হলে কাজের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। এনিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়। এমনকী কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে সাহায্য চান। পাশাপাশি লোকসভাতে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল। এদিকে, আজকের বৈঠক নিয়ে মেট্রোর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক এস এস কান্নানকে ফোন করার পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও রাত পর্যন্ত তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আবার মেট্রোর দায়িত্বপ্রাপ্ত জিএম মিলিন্দ দেউস্কারকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।